ঋষিকেশ অধিবেশনে বিশেষ দৃষ্টি উত্তর-পূর্বের দিকে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর: আসামের এনআরসিছুট ১৩ লক্ষ বাঙালি হিন্দুর সমস্যা জাতীয় স্তরে তুলে ধরবে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। আজ ঋষিকেশে রে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহীর বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরো সমস্যা খতিয়ে দেখার জন্য দলের সভানেত্রী রাজশ্রী চৌধুরী দায়িত্ব দিয়েছেন আসাম ও উত্তরপূর্ব প্রদেশ সভাপতি বিশ্বদীপ গুপ্তকে। কিভাবে অসমে বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্বের নামে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সেটা তুলে ধরা হয় এই সম্মেলনে।
দলের কর্মকর্তারা এই প্রথম জানতে পারলেন এ ধরনের সমস্যায় আছেন এদেশে হিন্দুরা। আসাম প্রদেশ সভাপতি বিশ্বদীপ গুপ্ত তার বক্তব্যে অসম ও উত্তর-পূর্বের সমস্যা তুলে ধরেন। এই সভাই ঠিক হয় দলের জাতীয় কার্যকারী কমিটির সভা হবে আগামী ১৩ ও ১৪ এপ্রিল। এতে উত্তর পূর্ব থেকে ১৫০ জন প্রতিনিধি যোগ দেবে ন।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের জাতীয় মুখপাত্র ডঃ নীরন গৌতম বলেন বাইরে আমরা বলি ইন্ডিয়ান ডায়াসপোরা। কিন্তু হিন্দু মহাসভা এটাকে বলতে চায় সনাতন ডায়াসপোরা।
সভায় উত্তর-পূর্বের সমস্যা নিয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করে বিশ্বদ্বীপ গুপ্ত বলেন, উত্তর-পূর্বের সবচেয়ে বড় রাজ্য আসাম। আসামের বর্তমানে আর্থিক অগ্রগতি মোটেই ভালো নয়। এবং এখানে এমন একটা পরিস্থিতি যে জনসংখ্যার বিন্যাস ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে।
এখানে মোট জনসংখ্যার ৩৬ শতাংশ মুসলমান। ২০১১ সালে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাপক হারে লাফিয়ে বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা । এছাড়া দেখা গেছে গত ১০ বছরে মুসলমান সংখ্যা গরিষ্ঠ বিধানসভা আসন গুলিতে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ। হিন্দু অধ্যুষিত আসন গুলিতে জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে আসামের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মুসলমান হয়ে যাবে। আগামীতে হিন্দু শাসন থাকবে না এই রাজ্যটিতে।

কিন্তু এই অবস্থায় দেখা যাচ্ছে বর্তমান যে সরকার এই সরকারের আমলে যে এনআরসি হয়েছে সেই এনআরসিতে প্রায় ১৩ লক্ষ হিন্দুর নাম বাদ পড়েছে। যেখানে মুসলমানদের নাম বাদ পড়েছে মাত্র পাঁচ লক্ষ। এই ১৩ লক্ষ হিন্দুর মধ্যে 90% বাঙালি হিন্দু। দেশভাগের বলি হয়ে এরা এদেশে এসেছিলেন। সবাই কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বা দেখাতে পারলেও সেটা গ্রাহ্য হয়নি, যার ফলে তাদের বিদেশী হতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়,একটা হিন্দু দেশে যদি এভাবে 13 লক্ষ বাঙালি হিন্দুকে এনআরসি থেকে বের করে দেওয়া হয় তার চাইতে দুঃখজনক ঘটনার কি থাকতে। আসামে প্রায় ৮০ লক্ষ বাঙ্গালী হিন্দু রয়েছেন। তাদেরক বাদ দিয়ে আসামে কোনদিন হিন্দুর প্রভাব থাকতে পারে না। শুধুমাত্র অসমীয়া হিন্দুদের দিয়ে অসমে হিন্দু সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এই সত্যটা অসমের হিন্দুদের বুঝতে হবে। যা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। তাদের বেশিরভাগ পদক্ষেপ বাঙালি হিন্দুর বিরুদ্ধে যাচ্ছে।
এর ফলে হিন্দুদের মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা সেটা হচ্ছে না। এছাড়া বিভিন্ন ছোট ছোট হিন্দু জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের মধ্যে একটা ঐক্য সাধন জরুরী। হিন্দু মহাসভা এ কাজটা করতে পারে। অসমীয়া হিন্দু ও বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে মেলবন্ধনের যে কাজ করতে বিজেপি ব্যর্থ হয়েছে সেই কাজটা হিন্দু মহাসভা করতে পারে।

e-mail: infocom.krc@gmail.com
Know More | Apply Here
অসমে বর্তমানে যেসব চাকরি হচ্ছে সেসব চাকরিতে বাঙালি হিন্দুদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে একটা হীনমন্যতা বোধ তৈরি হচ্ছে। বর্তমান বিজেপি সরকারের জন্য এটা আরো বেশি করে হচ্ছে। অসমীয়া ও বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। যা সামান্য দুই একটি বিরোধ রয়েছে সেটা মিটিয়ে ফেলা কোন অসম্ভব নয়। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক মেলামেশা ও বিবাহবন্ধন এত বেশি বেড়েছে যে এখানে কোন সমস্যা থাকার কথাই নয়। আসামের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই দুই সম্পদের ঐক্য জরুরী আর এই কাজটা হিন্দু মহাসভা করতে পারে।
এক ই অবস্থা আমরা লক্ষ্য করতে পারি ত্রিপুরাতে। রাজ্যে ৭০ শতাংশ বাঙালি হিন্দু। প্রায় ১৫ শতাংশ রয়েছেন উপজাতি সম্প্রদায়ের লোক। এরাও হিন্দু। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত জিইয়ে রাখা হয়েছে। এখানে মিশনারি প্রচণ্ড প্রভাব। এবং মিশনারী প্রভাবিত উপজাতিদের মধ্যে একটা বিচ্ছিন্নতাবোধ মাথা ছাড়া দিয়েছিল। তারা সশস্ত্র সংগ্রামের পথে নেমেছিল। যদিও এই সংগ্রাম প্রতিহত করা গেছে কিন্তু উপজাতিদের মধ্যে থেকে বাঙালি বিদ্বেষটা এখনো যায়নি। বারে বারে এটা উসকে দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে হিন্দু মহাসভার। এখনো বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশেও বিভিন্ন হিন্দু ও বৌদ্ধ গোষ্ঠী রয়েছে এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী লোকায়ত ধর্ম। এই সমস্ত কিছুকে একসাথে বেঁধে দেশের সার্বিক স্বার্থে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এখনেও হিন্দু মহাসভার মতো সংগঠনের একটা বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। রামকৃষ্ণ মিশন ভারত সেবাশ্রম সংঘ কাজ করলেও ক্রিশ্চিয়ানিটির প্রভাব আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে। নাগাল্যান্ড মেঘালয় ও মিজোরামে কাজ করার সুযোগ থাকলেও এখানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ খ্রিস্টান ধর্মালম্বি। যদিও মিজোরামে চাকমা দূষিত এলাকায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
সংক্ষেপে উত্তর পূর্বের যে বর্তমান সমস্যা রয়েছে সেটা সমাধানের সঙ্গে এগুলো সমস্যার একটা সংযোগ রয়েছে।। উত্তর পূর্বের প্রতি সারা দেশে যে একটা মানসিকতা রয়েছে সেটা বদলাতে হবে। সারা দেশের হিন্দুদের যে চোখে দেখা হয় সেই চোখে দেখতে হবে উত্তর পূর্বের হিন্দুদের। এ ধরনের একটি মানসিকতা প্রত্যেকের থাকা প্রয়োজন।
মণিপুরেও হিন্দুদের নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং গোপনভাবে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মে। ইতিমধ্যেই প্রায় দুই লক্ষ হিন্দু খ্রিস্টান হয়ে গেছেন। যদিও তাদের ফিরিয়ে আনার একটা কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা একটা অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। এভাবে দেশের স্বার্থে এবং হিন্দুত্বের স্বার্থে উত্তর পূর্বের দিকে মনোনিবেশ করা একান্ত প্রয়োজন।


