এক নজরে বরাক
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
সংবাদ 1– বেতুকান্দি বাঁধ কাটার ফলে শিলচর শহর পুরো ডুবে গিয়েছিল। বাদ মেরামত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শিলচরে কেবিনেট বৈঠকে বড়সড় টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পার হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত সেই বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। সামনেই বর্ষার মরশুম। স্থানীয় মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ম্যান ম্যাড ফ্লাড। কিন্তু স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এটা রাজনৈতিক বন্যা, মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের সব মন্ত্রী-বিধায়ক বেতুকান্দিতে গিয়েছিলে।
এখানেই শেষ নয়, পাঁচজনকে বেতুকান্দি কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সিবিআই তদন্ত হয়েছিল । এতসব হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত সেই বাধের কাজ শেষ হয়নি। তবে আদৌ কি এবছর শুরু বা শেষ হবে বাঁধ মেরামত কাজ ? এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে জনমনে l
সংবাদ 2 – এবার বেতুকান্দি বাঁধের সংস্কার নিয়ে সরব হলো কাছাড় জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মকর্তারা বেতুকান্দি যান। তারা বলেন গত বন্যায় পুরো শিলচর শহরের মানুষ ডুবেছেন। কিন্তু বর্ষার মাত্র এক মাস বাকি, এখনও বাধের কাজ শুরু হয় নি । তারা বলেন আগামী দুদিনের মধ্যে যদি বাধের কাজ শুরু না হয় তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস বেতুকান্দি এলাকায় সোমবার ধর্মঘটে বসবে। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রাজেশ দেব, তৃণমূল কংগ্রেসে সাধারণ সম্পাদক সজল বনিক, অলক আচার্য রাজদীপ দেবরায়, অনুপম পাল প্রমুখ।
সংবাদ 3 – লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদ্যালয়গুলোতে ২৫০টি সিলিং ফ্যান দান করলেন বিধায়ক কৌশিক রায়। শুক্রবার পয়লাপুল কমিউনিটি হলে এ উপলক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যাঞ্জলী যোজনার মাধ্যমে ফ্যানগুলো বন্টন করা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কাছাড়ের জেলাশাসক রোহন কুমার ঝা, লক্ষীপুরের বিধায়ক কৌশিক রায় সহ অন্যান্য বিভাগীয় আধিকারিকরা।
বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে ফ্যান তুলে দিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক কৌশিক বলেন, বিদ্যাঞ্জলী যোজনায় যে কেউ শামিল হয়ে এধরনের দান করতে পারেন। এতে এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা হবে। জেলাশাসক রোহন কুমার ঝা ফ্যান দান করার জন্য বিধায়ক কৌশিক রায়কে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

সংবাদ 4- পশ্চিম কাটিগড়া থেকে অগ্নীবীর প্রকল্পে মাত্র এক যুবকই সুযোগ পেয়েছেন। তার নাম শ্রীকান্ত দাস। কুশিয়ারকুল জিপির বলেশ্বর গ্রান্ট এলাকার গরিব কাঠমিস্ত্রি করুনা দাসের একমাত্র ছেলে শ্রীকান্ত আগামী ২৭ তারিখ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিতে কানপুর যাচ্ছেন। সেখানে সাতমাস প্রশিক্ষণ নেবার পর রাজপুত রেজিমেন্টে অগ্নীবীর হিসেবে দেশ সেবার কাজে নিয়োজিত হবেন।
সংবাদ 5- গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যু বদরপুরের এক যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে বদরপুর এংলার বাজার জিপির পূর্ব হরিণাদিক গ্রামে । ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার চাঞ্চল্য বিরাজ করে এলাকা জুড়ে।আত্মহত্যা করা যুবকটি পূর্ব হরিণাদিক গ্রামের জুবের আহমেদ (২৩) । জানাগেছে শুক্রবার সকালে তার ঘরের ভিতর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার মা ও ভাইয়ের বউ । সঙ্গে সঙ্গে মানুষ জড়ো হন।
এরপর বদরপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। শুক্রবার দুপুর ২টায় বদরপুর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত্যু দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। তবে আত্মহত্যার কারণ জানা যায় নি।
সংবাদ 6- শুক্রবার কাটিগড়া সার্কল আধিকারিক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক্তন বিধায়ক অমর চাঁদ জৈন, বারুণী মেলা পরিচালন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সন্দীপ পাল প্রমুখ বিশিষ্টদের পাশে নিয়ে সার্কল অফিসের বড়বাবু বিমলকান্তি ধরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নিলামে ছয়জন অংশ নেন। প্রত্যেকেই পঁচিশ হাজার টাকা করে সিকিউরিটি প্রদান করেন। এদিনের নিলামে সরকারি হিসেবে পঁচিশ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়। নিলাম পর্ব শুরু হওয়ার পর প্রথমে পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে নিলাম শুরু হলেও সর্বাধিক পনেরো লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকায় এবছরের বারুণী মেলার লেসীর দায়িত্ব পান সাতির আলি। নিলাম অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নবেন্দু শেখর নাথ, মনোজ পাল, নির্ঝর দাস, মৃদুল নাগ প্রমুখ।
সংবাদ 7- সনাতন বিশ্বের শান্তি কামনায় প্রথমবারের মতো হাইলাকান্দি শহরের ঐতিহ্যবাহী ভৈরব বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে রুদ্র মহাযজ্ঞ। চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ইতিমধ্যে বেনারস এবং কলকাতা থেকে এসে পৌঁছেছেন ভোলাগিরি আশ্রম এবং রামকৃষ্ণ মিশনের নয়জন সাধু-সন্ত এবং মহারাজ। শুক্রবার সকাল ৮টায় ধর্মীয় শোভাযাত্রা সহকারে জল ভরা এবং পুণ্য অধিবাসের মাধ্যমে মহাযজ্ঞের সূচনা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৬টায় বৈদিক রীতি অনুসারে শ্রীশ্রী রুদ্র মহাযজ্ঞের শুভারম্ভ করেন সাধু-সন্ত এবং মহারাজরা। রয়েছে ধর্ম আলোচনা সভায় সাধু-সন্ত সহ মহারাজদের প্রবচন, মহাপ্রসাদ বিতরণ, শ্রীশ্রী গীতাপাঠের আসর, আমন্ত্রিত সঙ্গীত এবং নৃত্য শিল্পীদের ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।


