এক নজরে বরাক
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
সংবাদ 1 – শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা ট্রেন থেকে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা ঘটলো বদরপুর রেল স্টেশনে। ট্রেনে করে বহি:রাজ্যে পাচার করতে গিয়ে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গাজা সহ দুই মহিলা। ব্যাগ করে গাঁজা পাচারের উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জিআরপি বাহিনী আগরতলা-শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে তল্লাশি চালিয়ে গাজা উদ্ধার করে। আটক দুই মহিলা বিহার রাজ্যের বাসিন্দা রিনা দেবী ৩৫ ও মিনা দেবী। উদ্ধারকৃত ৮ প্যাকেট ১০ কেজি গাঁজা ছিল। যার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা হবে বলে পুলিশের ধারনা।
সংবাদ 2 – শিলচর মেহেরপুর মেডিনোভা হাসপাতালের গলিতে স্থিত সরকারি প্রকল্পের অধীনে থাকা প্যারাডাইস মানসিক ভারসাম্য হীনদের আবাসিক কেন্দ্রে থাকা শিলচর ইটখলা নিবাসী শ্রীবাস বিশ্বাসের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সমগ্র শিলচরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এদিকে শিলচরের কোন এক নিউজ চ্যানেলের সংবাদে এসেছিল নেশা মুক্তি কেন্দ্রে সেই মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেটির মৃত্যু ঘটেছে বলে, সেই সংবাদটি দেখে বরাকভ্যালি ডি-এডিকশন সেন্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা যৌথভাবে প্যারাডাইস মানসিক ভারসাম্যহীনদের হোমে গিয়ে উপস্তিত হন এবং সেখানে গিয়ে দেখেন এক অদ্ভুত দৃশ্য এই আবাসিক কেন্দ্রে থাকা ১৩জন মানসিক ভারসাম্যহীনদের ঘুমানোর সঠিক ভাবে নেই বিছানা ও নেই থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা এমনটা কিভাবে চলছে সরকারি প্রকল্পের অধীনে থাকা প্যারাডাইসের কর্তৃপক্ষরা কিভাবে প্রকল্পটি চালাচ্ছেন তারা জিজ্ঞেসাবাদ করেন?
সঙ্গে-সঙ্গে চলে আছেন এডিসি হিরোমনি মিলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত সেন, শিলচর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ অমৃত কুমার সিং মহাশয়েরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্যারাডাইস মানসিক ভারসাম্যহীন হোমটির মেইন গেইটে সিলমোহর যুক্ত তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।সন্ধ্যা সাড়ে ৬ ঘটিকায় মৃত শ্রীবাস বিশ্বাসের মরদেহটি শেষকৃত্য করার জন্য শ্মশানে নিয়ে আসা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ওই প্যারাডাইস মানসিক ভারসাম্যহীন ১৩ জন সব বয়সী পুরুষ ও মহিলাদের সাবাসপুর স্থিত নিউ লাইফ ফাউন্ডেশন নেশামুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থানান্তরিত করা হয়।
সংবাদ 3 – হর ঘর নল হর ঘর জল রাজ্য সরকারের এই স্লোগান কার্য্যত বুমেরাং হয়ে দাড়িয়েছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পের আওতায় আসাম সরকার জনগনের সুবিদার্থে কাড়িকাড়ি টাকা খরচ করলেও বাস্তবে এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত করিমগঞ্জ জেলার বহু গ্রাম। বৃহস্পতিবার শহর সংলগ্ন লংগাই বেতাইল এলাকার ১০ নং ওয়ার্ডের দুই শতাধিক লোক বিশুদ্ধ পানীয়জল দেওয়ার দাবীতে জানিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হোন । জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে গ্রামবাসী জানান একফোঁটা জলের জন্য প্রতিদিন তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়।
ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কোনও রকমে দুই তিনজন কলসি ভরলেও বাকীদের খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে তারা পানীয় জলের সমস্যায় ভুগলে ও আজ আবধি কেউই তাদের খোজ নেয়নি বলে জানান গ্রামবাসী। অন্যদিকে এপি সদস্য কমরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন তাদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে এক পক্ষ এগিয়ে এলে আরেক পক্ষ বাধা প্রদান করে। তাই গ্রামবাসীদের নিয়ে রাজনীতি না করে গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষের সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে জেলাপ্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ 4 – রোগীর মৃত্যকে কেন্দ্র করে সরগরম করিমগঞ্জ জেলাশাসক কার্যালয় চত্বরে। মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী হাসপাতালের আই সি ইউ’র চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নজমুল হকের জোরালো শাস্তির দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার ধর্নায় বসলেন সদ্য মাতৃহারা চার সন্তান। হাসপাতালের আই সি ইউ বিভাগের কর্মীদের চূড়ান্ত গাফিলতির দরুনই তাদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মায়ের মতো আর কারো মায়েদের যাতে অকালে প্রাণ হারাতে না হয় এই আকুল আবেদন জানিয়ে মাতৃহারা পুত্রদের দাবি নজমুলের মতো লোকদের শাস্তি হওয়া দরকার।
অতিসত্বর দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে একসময় করিমগঞ্জের জেলাশাসক কার্যালয়ের চত্বর উত্তাল করে তুলেন প্রতিবাদকারীরা। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছুটে যান অতিরিক্ত জেলাশাসক। তিনি প্রতিবাদকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সহকারে বিবেচনা করা হবে। তদন্তে দোষীদের কোনও ভাবেই রেহাই দেওয়া হবেনা। উল্লেখ্য গত রবিবার শহরের সেটেলমেন্ট লিংক রোডের বাসীন্দা নিয়তি দেবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্মী নজমুল হককে মারধরের অভিযোগ ওঠে মৃতার পুত্র বাবলা দেব সহ তাদের নিকটাত্মীয়দের উপর।
সংবাদ 5 – নাথানপুরের ধর্ষণ কান্ডে বৃহস্পতিবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ধর্ষিতা মেয়েটি অভিযুক্ত আনোয়ারউদ্দিনের বাড়ীতে গিয়ে বিষ খাবার পর বুধবার রাতে শিলচর মেডিক্যাল কলেজে মারা যায়। এনিয়ে বৃহস্পতিবার মেয়েটির স্কুলের সব পড়ুয়া কালাইন থানা ঘেরাও করে। অন্যদিকে ধর্ষিতা মেয়ের বাবা আসকর আলি তার মেয়েকে পরিকল্পনা করে ঘর থেকে টেনে আনোয়ারের বাড়িতে নিয়ে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার মূল অভিযুক্তরা হচ্ছে সারিমুল হক লস্কর, অভিযুক্ত ধর্ষক আনোয়ারউদ্দিনের ছেলে কমরুল ইসলাম, ইমরুল হক সহ আরো কয়েকজন। বিকেলে হতভাগ্য মেয়েটির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর কালাইনে আসলে তার পরিবারের লোক সহ গ্রামবাসীরা ফের একবার থানা ঘেরাও করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা চিৎকার চেচামেচী চলার পর ওসি প্রজ্ঞান গগৈ আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আটক করবেন আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টায় থানা ঘেরাও মুক্ত হয়।




