গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মহিলা-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা চাওয়াংকিনিং গ্রামের দিকে এগিয়ে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল:মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় একটি সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার সন্দেহে ছয় জনকে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করার পর শনিবার উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁদের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ইম্ফল-দিমাপুর জাতীয় সড়কের কয়েকটি জায়গায় অবরোধ করে।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার চাওয়াংকিনিং গ্রামের কাছে খোলেপ এলাকায় কোবরা বাহিনীর একটি দল ছয় জনকে আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিরা হলেন সাইলেট, মাংলেন, সাথো, লেনলাল, গিন এবং চুচুং। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মহিলা-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা চাওয়াংকিনিং গ্রামের দিকে এগিয়ে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের আটকে দেয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এর পর সন্ধ্যার দিকে কাংপোকপি বাজার, মটবুং-সহ জাতীয় সড়কের কয়েকটি এলাকায় টায়ার ও অন্যান্য সামগ্রী জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। এর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতেও সমস্যা হয়।
এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাত ন’টার দিকে মটবুং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি এবং সাধারণ যাত্রীদের একাংশ আটকে পড়ে বলে তিনি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ‘ক্যাসপির’ গাড়িকে ঘিরে উত্তেজিত জনতাকে দেখা যায়। গাড়িটির একাংশে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়। তবে ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।
চাওয়াংকিনিং এলাকায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর অন্তত পাঁচটি বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। তার আগে একই জেলায় পৃথক হামলায় ছয় জন নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে।
কাংপোকপিতে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ১৩ মে কাংপোকপি ও নোনে জেলায় পৃথক হামলায় চার জন নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
নতুন করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


