একই মামলায় আদালত তাঁকে বিভিন্ন ধারায় আরও কারাদণ্ড ও মোট ১.৩০ লক্ষ টাকা জরিমানার সাজা দিয়েছে।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
আগরতলা:ত্রিপুরার সোনামুড়ার বিশেষ এনডিপিএস আদালত মাদক মামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। একই মামলায় আদালত তাঁকে বিভিন্ন ধারায় আরও কারাদণ্ড ও মোট ১.৩০ লক্ষ টাকা জরিমানার সাজা দিয়েছে।
দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির নাম মহম্মদ মুজাহিদ মিঞা (২৬)। তিনি বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার অধীন বানগাঁও, লগাঁও এলাকার বাসিন্দা বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ সোনামুড়া থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় শনিবার রায় ঘোষণা করে আদালত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ বিকেল ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনি ভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে এনসি নগর সীমান্ত চৌকির কাছে আটক করেন। ঘটনাস্থলটি সীমান্ত স্তম্ভ ২০৮১/২-এস-এর কাছে বলে জানা যায়।
পরে সোনামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন মেনে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে মুজাহিদের কাছ থেকে ২৮,৫০০ বাংলাদেশি টাকা, ২৫ বোতল ফেনসিডিল এবং ১২ কেজি সন্দেহভাজন গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি প্রমাণ হিসেবে বাজেয়াপ্ত করা হয়।
আদালত মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবী পদার্থ আইন বা এনডিপিএস আইনের ২০(বি)(২)(বি) ধারায় তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এনডিপিএস আইনের ২১(সি) ধারায় তাঁকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত আরও একটি ধারায় তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের পর সাব-ইনস্পেক্টর জগবন্ধু দেবনাথ ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বর্তমানে তিনি সেপাহিজলা জেলার কালামচৌড়া থানায় কর্মরত।
মামলার নথি ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনার পর সোনামুড়ার বিশেষ এনডিপিএস আদালত মুজাহিদকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯ সেপ্টেম্বর সাজা ঘোষণা করে।


