নেতাজির যুদ্ধ অপরাধী নন ,স্বাধীনতার সংগ্রামী, প্রতিবাদে সোচ্চার মইরাংয়ের জনতা

2 - মিনিট |

আজ থেকে মনিপুরে শুরু হল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা স্বাক্ষর অভিযান

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ইম্ফল: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যুদ্ধ অপরাধী হতে পারেন না। তার উপর থেকে এই তকমা প্রত্যাহার করতে হবে রাষ্ট্রসংঘ ও কমনওয়েলথের মতো বিভিন্ন সংস্থাকে।আজ আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজড়িত মইরাংয়ের জনতা এই দাবি তুললেন। একইসঙ্গে মণিপুরে শুরু হয়ে গেল নেতাজিকে যুদ্ধ অপরাধী তকমা প্রত্যাহারের দাবিতে সাক্ষর অভিযান। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা এই স্বাক্ষর অভিযানের শুরু করল আজ মৈরাং থেকে। এখানকার আইএনএ হলে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেন ,নেতাজি ছিলেন একজন স্বাধীনতার সংগ্রামী। তিনি ভারতকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন ব্রিটিশের কবল থেকে। তাই তাকে কোন অবস্থায় যুদ্ধ অপরাধী বলা যায় না।

এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীরা এই আলোচনা সভায় অংশ নেন। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী মাইরাং কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান মধু সিং তার ভাষণে বলেন ,নেতাজির এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মনিপুরের মানুষও। এমনকি মনিপুরের মানুষ আজাদ হিন্দ ফৌজকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। অনেক মণিপুরী আজাদ হিন্দ বাহিনীতে যোগ দিয়ে শহীদ হয়েছেন। আর নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে মইরাংয়ের মানুষ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ বলে তিনি জানান। আজাদ হিন্দ ফৌজের তিরঙ্গা পতাকা প্রথমে উড়েছিল এই মাইরাঙ্গের মাটিতে। তাই এই এলাকার মানুষ এখনো সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদহিন্দ ফৌজ কে ভালোবাসেন।

Register your business, organisation, and services in ‘InfoCom Silchar Diary’
e-mail: infocom.krc@gmail.com
Know More | Apply Here

বিশিষ্ট নেতাজি গবেষক ওয়াই রাজেশ্বর সিং বলেন নেতাজির উপর এই তকমা লাগানো হয়েছিল ব্রিটিশদের স্বার্থে। এখন এটা প্রত্যাহার করা উচিত। নেতাজি কিভাবে জাপানে গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেছিলেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতের মুক্তি সংগ্রামে কি ভূমিকা নিয়েছিল সেটা তিনি বিশদভাবে উল্লেখ করেন। নেপকোর প্রাক্তন ম্যানেজার ইবামোচা সিং বলেন নেতাজি ছিলেন ভারতের মুক্তি আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক।

এই উত্তর পূর্বের সঙ্গে নেতাজির একটা বিশেষ সম্পর্ক ছিল। স্বাক্ষর অভিযানে ব্যাপক হারে মানুষ অংশ নেন। এমনকি মইরাংয়ে নেতাজি মিউজিয়াম দেখতে আসা প্রবাসী ভারতীয় পর্যটকরা এই স্বাক্ষর অভিযানের অংশ নেন। সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মইরাংয়ের আইএনএ শহীদ মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের পরিচালকদের ধন্যবাদ জানান অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র ও বিদেশ শাখা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব অধ্যাপক ড: নিলাম গৌতম।

সভায় স্বাক্ষর অভিযান সম্পর্কে বলতে গিয়ে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার আসাম ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি বিশ্বদীপ গুপ্ত বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি শিলচর থেকে এই স্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়েছে। উত্তর পূর্বে ২ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে। আজ থেকে মনিপুরের স্বাক্ষর অভিযান শুরু হল। অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভাও আজ মণিপুরে তাদের যাত্রা একই দিনে শুরু করল। রাজধানী ইমফলে আজ উদ্বোধন হলো অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার নতুন অফিস ভবনের। বিশ্বদীপ জানান খুব শীঘ্রই অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা মনিপুরে সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করতে যাচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *