মৃতদেহ নিয়ে প্রতিবাদ এলাকাবাসীর, ৪ লক্ষের আর্থিক অনুদানের আশ্বাস প্রশাসনের
অজিত দাস
শিলচর শহরের পূর্ণপাল রোডের বাসিন্দা জয়দীপ চক্রবর্তী সোমবার সকালে তার বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃশ্য হয়ে মারা যান। বাড়ির পাশের নালা পরিষ্কার না থাকায় তার বাড়িতে বৃষ্টির জল জমে যায় এবং এলাকাবাসীরা মনে করছেন এটাই তার মৃত্যুর কারণ। তারা মৃতদেহ নিয়ে সোমবার বিকেলে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে অম্বিকাপট্টি পয়েন্টে প্রতিবাদ করেন। পুলিশ ও সিআরপিএফ বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবাদী জনতা দাবি জানান মৃত ব্যক্তির পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক অনুদান দিতে হবে এবং অতিসত্বর এলাকার নালা পরিষ্কার করতে হবে যাতে এধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে।
মৃত ব্যক্তির নাম জয়দীপ চক্রবর্তী (মুন্না), বয়স ৩০ বছর। তিনি একটি দোকানে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে পাঁচ মাস আগেই তার বিয়ে হয়েছে। তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা এবং এমন অবস্থায় এই অঘটনের পরিবার একেবারে ভেঙে পড়েছে। তার বাবার মৃত্যু হয়েছে আগেই, মা, বড় ভাই সহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা পূর্ণপাল রোডের বাড়িতে থাকতেন তিনি।
সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে জল তোলার জন্য মোটরের সুইচ দিতে গেছিলেন মুন্না। যে এলাকায় মোটর রয়েছে সেখানে রবিবার রাতের বৃষ্টিতে জল জমে ছিল। হঠাৎ করে পরিবারের লোকেরা একটি শব্দ পেয়ে ছুটে যান এবং গিয়ে দেখেন জয়দীপ চক্রবর্তী মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। তারা তৎক্ষণাৎ পাড়ার লোকেদের ডাকেন এবং সবাই মিলে অচেতন অবস্থায় জয়দীপকে নিয়ে সিভিল হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাকে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডাক্তাররা বলেন তার মৃত্যু আগেই হয়েছে।
এলাকার লোকেরা এরপর মৃতদেহ নিয়ে প্রায় তিন ঘন্টা সময় ধরে প্রতিবাদ করার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্কেল অফিসার কুমার গৌরব দাস তাদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি আশ্বাস দেন ডিডিএমএ-র মাধ্যমে পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া এছাড়া যেসব দাবি এলাকাবাসীরা তুলেছেন, সেগুলো উপর মহলে পাঠানো হবে। তার আশ্বাস পেয়ে প্রতিবাদী জনতা রাস্তা খুলে দেন এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তির বিশ্বাস ফেলেন।


