মণিপুরের ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিকরণকে ঘিরে তাদের মতে অমীমাংসিত ঐতিহাসিক, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল: ১৯৪৯ সালের মণিপুর সংযুক্তিকরণ চুক্তির বিরোধিতায় নিষিদ্ধ সংগঠন ন্যাশনাল রেভলিউশনারি ফ্রন্ট মণিপুরের (এনআরএফএম) ডাকা ২৪ ঘণ্টার বন্ধে সোমবার উপত্যকার জেলাগুলিতে জনজীবন ব্যাহত হয়। স্কুল, কলেজ, বাজার ও সরকারি-বেসরকারি দফতরের অধিকাংশই বন্ধ ছিল।
ইম্ফলে সকাল সাড়ে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত গণপরিবহণ রাস্তায় নামেনি। তবে রাজ্যের রাজধানীর প্রধান এলাকাগুলিতে কিছু ব্যক্তিগত যান চলাচল করতে দেখা যায়। ১৯৪৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মণিপুর সংযুক্তিকরণ চুক্তি স্বাক্ষরের ৭৭তম বার্ষিকীর দিনেই এই বন্ধ পালিত হয়।
এনআরএফএম জানিয়েছে, মণিপুরের ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিকরণকে ঘিরে তাদের মতে অমীমাংসিত ঐতিহাসিক, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি ২১ জানুয়ারি ১৯৭২-কে মণিপুরের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালনের বিরোধিতাও করেছে।
এক বিবৃতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনটি দাবি করেছে, ১৯৭২ সালের আগে মণিপুরে নিজস্ব রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ছিল। তারা ১৯৪৭ সালের মণিপুর স্টেট কনস্টিটিউশন অ্যাক্ট এবং তৎকালীন নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলির উল্লেখ করেছে।
সংগঠনটির আরও দাবি, মহারাজা বোধচন্দ্র সিংয়ের স্বাক্ষরিত সংযুক্তিকরণ চুক্তি নির্বাচিত মণিপুর বিধানসভা অনুমোদন করেনি। ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে ইম্ফলে অনুষ্ঠিত মণিপুর সংযুক্তিকরণ ইস্যু সংক্রান্ত জাতীয় সম্মেলনের কথাও তারা উল্লেখ করেছে।
এনআরএফএম রাষ্ট্রসংঘের সনদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও উপনিবেশমুক্তির নীতির উল্লেখ করে মণিপুরের রাজনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। তারা মণিপুরকে রাষ্ট্রসংঘের ‘নন-সেল্ফ-গভর্নিং টেরিটরি’ হিসেবে বিবেচনারও দাবি করেছে। তবে মণিপুর বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের ওই তালিকায় নেই।
বন্ধের কয়েক দিন আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর, ইম্ফল পশ্চিমে একটি সিআরপিএফ কনভয়ে গুলি চালানোর ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির দুই সন্দেহভাজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এনআরএফএম ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টির তিনটি গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অভিযোগ, সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন প্রতিবেশী দেশে ঘাঁটি থেকে কাজ করেন এবং মণিপুর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় হিংসা ও তোলাবাজির ঘটনায় সংগঠনটির জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।


