মিজোরাম সীমান্তের বাণিজ্যকেন্দ্রে হিংসার অভিযোগ, সাত নৌকাচালককে আটক আরাকান আর্মির

< 1 - মিনিট |

মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দক্ষিণ মিজোরাম প্রতিবেশী অঞ্চলগুলিতে জ্বালানি-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

আইজল;মিজোরামের সিয়াহা জেলার খাইক্যি গ্রামে সীমান্তবর্তী একটি বাণিজ্যকেন্দ্রে হিংসা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সাত নৌকাচালককে আটক করেছে মায়ানমারভিত্তিক আরাকান আর্মি। সূত্রের খবর, ১৪ সেপ্টেম্বর খাইক্যি ঘাটে ঘটনাটি ঘটে।

দক্ষিণ মিজোরামের সঙ্গে মায়ানমারের রাখাইন ও দক্ষিণ চিন অঞ্চলের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র এই ঘাট। আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের মুখপাত্র ইউ খাইং থুকা জানান, সংগঠনের আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা দফতর কো জাও নাইং লিন (২৫) এবং আরও ছয়জনকে ঘটনায় হিংসা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে।

থুকার দাবি, সাত নৌকাচালককে আটক করে সতর্ক করা হয়েছে এবং সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘাটে অপেক্ষারত নৌকা পরিচালনা নিয়ে প্রথমে বচসা শুরু হয়। নৌকাচালকদের কয়েকজন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁরা দাবি করেন, ভারতীয় দিক থেকে আসা নৌকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং জাও নাইং লিন প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে সিয়াহা জেলায় কাজ করা যুব সংগঠন মারা থিউটলিয়া পাইয়ের দায়িত্বকেন্দ্রে হামলা চালান বলে অভিযোগ। সেখানে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরানোর চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর সংগঠনটি মায়ানমারের রাখাইন ও দক্ষিণ চিন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এন সলোমন বেইলথোথা জানান, ঘটনার পর ফুরা উপ-সদর দফতর এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বাণিজ্য বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

সালালুই নদীর তীরে মিজোরাম-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত খাইক্যি আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি পিক-আপ গাড়িতে পণ্য সেখানে পৌঁছয়। প্রায় একই সংখ্যক নৌকায় সেই পণ্য সালালুই নদী দিয়ে পালেতওয়া এবং দক্ষিণ চিন ও রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় যায়।

মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দক্ষিণ মিজোরাম প্রতিবেশী অঞ্চলগুলিতে জ্বালানি-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে। ফলে বাণিজ্য বন্ধের সিদ্ধান্তে ওই অঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *