রেলওয়ের ওপর নির্ভরশীল দুইহাজার হকার রোজগার বিহীন

2 - মিনিট |

অনাহারে অর্ধাহারে এই হকাররা দিন কাটাচ্ছেন

প্রকৃতি নিউজ কনসার্ন

শিলচর – ব্রডগেজ চালু হতেই বরাক উপত্যকার আনুমানিক দুই হাজারের মতো হকার রোজগার হারিয়েছেন। আজ থেকে ৫০-৬০ বছরের বেশি সময় ধরে যে সকল লোক চলন্ত ট্রেনে চানা,মটর বাদাম ও চা ফেরি করে নিজের পরিবারের ভরন পোষণ করেছেন আজ তাদের কপালে বাজ পড়েছে ,এখন আর সেই আওয়াজ বাদাম,ঝাল মুড়ি,ঘটি গরম,চা লাগে চা এসব অতীত হয়ে গেছে।

অবশ্য ব্রডগেজ চালু হওয়ার কিছু দিন এই সব হকার গন চলন্ত ট্রেনে চড়তে দেখা গেছে, তারপর , আই আর টি সির নজরে পড়েন এই সকল দরিদ্র হকাররা, প্রথমে শুনা গেছিল এইসব হকার দের লাইসেন্স প্রদান করা হবে,তা নিয়ে জনা কয়েক হকার যোগাযোগ ও করেছিলেন কিন্তু এরপর আর এই বিষয়ে কোনো তৎপরতা দেখায় নি রেলওয়ে বিভাগ। এখানে উল্লেখ্য যে বর্তমানে ভারতের রেল মন্ত্রণালয় সব দায় দায়িত্ব আই আর টি সি কতৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে।

টিকিট থেকে শুরু করে ট্রেনের ভেতরের খাবারদাবারের সব কিছু আই আর টি সি কতৃপক্ষের হাতে। তাদের মনগড়া খাবার পরিবেশন ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে মূল্য সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন হবার পর ও রেল মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের তৎপরতা দেখায় না বলে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আই আর টি সি কতৃপক্ষের ব্যবসাতে ভাগ বসিয়ে নিবে এই সব হকাররা এই ভেবে তারা স্থানীয় হকার দের কে ট্রেনে এমনকি রেলওয়ে স্টেশনে ও পা ফেলতে দেয় না,যখন ই এই সব গরীব হকাররা পেটের তাগিদে ট্রেনে চড়তে চায় তখনই রেলওয়ে পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করা সহ মামলা রুজু করে দেয় এসব গত এক মাস থেকে শুরু হয়েছে।

এমতাবস্থায় বরাক উপত্যকার আনুমানিক দুই হাজারের মতো হকার আজ নিরুপায় হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। সম্প্রতি তারা বদর পুর রেলওয়ে এরিয়া ম্যানেজারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে তাদের অভিযোগের বিষয়ে অবগত করান কিন্তু এরিয়া ম্যানেজারের কাছ থেকে কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া পাননি। আর না পাওয়ার কথা কারন আই আর টি সি কতৃপক্ষের হাতে সমস্ত কিছু অর্পন করা হয়ে গেছে সেই লালু প্রসাদ যাদবের আমলে।

অবশেষে অসহায় হকার সমিতির কর্মকর্তারা ভাবলেন যেহেতু কেন্দ্র সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা করতে সংঘ পরিবারের এক বিশেষ ভূমিকা থাকে সেখানে আমাদের দাবি তুলে ধরে যদি একটা কিছু হয় সেই আশায় তারা সোজা চলে যান শ্রী গৌরীর মাধব ধামে সেখানে গিয়ে সংঘ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের অসহায় জীবন যাপনের কথা তুলে ধরে তাদের সাহায্য কামনা করেন।

সেই সময় মাধব ধামে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রান্ত সংঘটন মন্ত্রী পূর্ন চন্দ্র মন্ডল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বরিষ্ঠ কর্মকর্তা রাণা গোস্বামী,বদরপুরের ওয়ার্ড কমিশনার নিরুপম আচার্য । তাঁরা হকার সমিতির কর্মকর্তাদের দূর্দশার কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে তাদের কে আশ্বাস প্রদান করেন যে তাঁরা রেল বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আনার চেষ্টা করবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *