SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি

2 - মিনিট |

Form 6-এ ‘বংশপরিচয়’ ও আগের SIR-এর তথ্য চাওয়ার অভিযোগ; ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার দাবিতেও SIT তদন্ত চাইলেন আইনজীবী

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অনুমোদন বা নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের সম্মতি ছাড়াই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সেগুলি অসাংবিধানিক ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী।

আবেদনকারীর দাবি, ECINet/ERONet পোর্টালে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির জন্য ব্যবহৃত Form 6-এ এমন কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারীদের বংশপরিচয় এবং আগের SIR সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে বলা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলিকে ‘অননুমোদিত’ দাবি করে তা বাতিল এবং ১৯৬০ সালের Registration of Electors Rules-এ নির্ধারিত মূল Form 6 পুনর্বহালের আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে মূল আইনি শর্তই কার্যকর থাকা উচিত। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থায় ডিজিটাল পরিবর্তনগুলি কীভাবে করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ

মামলাকারী আরও দাবি করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হোক। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্তগুলির বৈধতা খতিয়ে দেখার আবেদনও করা হয়েছে।

CEC জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গ এবং নির্বাচন কমিশনের আইটি প্রধান সীমা খান্নার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

তবে এই অভিযোগগুলির কোনওটিই এখনও আদালতের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নয়। এগুলি মামলাকারীর আবেদনে করা দাবি।

পশ্চিমবঙ্গের ১৬.১০ লক্ষ আপিল নিয়েও প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনের নামে প্রায় ১৬.১০ লক্ষ আপিল দায়ের করা হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। আবেদনকারীর বক্তব্য, এই আপিলগুলির আইনি ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সেই পদক্ষেপের ক্ষমতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এছাড়া, Representation of the People Act, 1950-এর 13B ধারার অধীনে দেশের বিভিন্ন Electoral Registration Officer-এর ERONet এবং ECINet-এ পূর্ণ ডিজিটাল প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্তরে অতিরিক্ত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকদের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের অভিযোগ

একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, SIR-সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই সদস্যের সঙ্গে মতৈক্য ছিল না।

তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য কমিশনের মধ্যে কোনও ‘বিভাজন’-এর ধারণা খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, বহু সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ আলোচনার সময় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং SIR-সহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত কমিশনের প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা এই আবেদনে এখন আদালত কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে, তার উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *