বাসিন্দা দুলাল মাহাতোর দাদা প্রিয়রঞ্জন মাহাতো বলেন “ ভাই জামিতে ধান দেখতে গিয়েছিল।সেই সময় দাঁতাল হাতিটি জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে আসে। ভাই হাতিটির সামনে পড়ে যায়।শুঁড় দিয়ে ধাক্কা মেরে ফলে দেয়
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শুক্রবার সাত সকালে রাজ্য সড়কে হাতির তান্ডবে স্তব্ধ গেল যান চলাচল। রীতিমতো পিচ রাস্তায় উঠে দাদাগিরি শুরু করে দাঁতালটি। গাড়ি থামিয়ে খাবারের খোঁজ করতে শুরু করে। গাড়ির ত্রিপল টেনে গাড়ির মধ্যে কি আছে তা দেখা শুরু করে। খাবারের সন্ধান চালানোর সময় একটি পিক আপ ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে দেয়। এমনকি যাত্রীবাহী বিভিন্ন গাড়িতে শুঁড় গলিয়ে দরজায় ধাক্কা মরে যার জন্য ব্যপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে ৫ নম্বর রাজ্য সড়কে যান চলাচলা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার পাশে সারি দিয়ে দাড়িয়ে পড়ে যাত্রীবাহী গাড়ি সহ পন্য বোঝাই অন্যান্য গাড়ি।
এদিকে হাতির ভয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে জখম হয় কাউন্টার ইনসাজেন্সি ফোর্সের এক কন্সসটেবল। তাকে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। রাজ্য সড়কে হামলা চালিয়ে গ্রামে ঢুকে জখম করে আর এক যুবককে দাঁতালটি। কপাল জোরে প্রানে বাঁচে সে। তাকে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপারস্পেশালটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম ব্লকের গড় শালবনি এবং জিতুশোলের মাঝে রাজ্য সড়কে এইভাবেই একটি দাঁতাল তীব্র আতঙ্কে পরিস্থিতি তৈরি করে।
স্থানীয় মানুষ জন জানান রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে তখন যাত্রীবাহী সরকারি,বেসরকারি বাস সহ বিভিন্ন পন্যবাহী গাড়ি চলাচল করছিল। ব্যস্ত সড়কে হঠাৎই একটি দাঁতাল উঠে পড়ে। দাঁতাল হাতিটিকে দেখে বিভিন্ন গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। রাস্তার অন্যপ্রান্তে মানুষ জন জড় হয়ে যায়।সার বেধে গাড়ি গুলি দাঁড়িয়ে ছিল।এরপর দাঁতালটি শুঁড় গলানোর চেষ্টা করছিল বাসের জানালা দিয়ে। বাসের দরজায় ক্রমাগত ধাক্কা মারছিল। খাদ্যের সন্ধানে হাতিটিকে বেশ উত্তেজিত দেখাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
একটি বেসরকারি বাসের পিছনে ধাক্কা মারে। একটি পিক ভ্যান ওষুধ নিয়ে টাটা যাচ্ছিল। সেই গাড়িটিও দাড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করে হাতি এসে সজোরে এমন ধাক্কা মারে গাড়িটিকে যে গাড়িটি উল্টে যায়। গাড়ির চালক, খালাসি কোন রকমে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে প্রানে বাঁচেন। দীর্ঘক্ষন এই তান্ডব চালার ফলে এই রাজ্য সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে শালবানি এলাকায় বাইক নিয়ে চা খেতে গিয়েছিলেন সিআইএফের দুই কন্সটেবল।রাস্তায় হাতি দেখে তারা ভয় পেয়ে বাইক রেখে পালায়। পরে তাদের মধ্যে দীপক পাল নামে এক কন্সটেবল বাইকটি নিতে ফেরৎ আসেন।পুলিশ জানিয়েছে তিনি এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে সেখানে পড়ে যান।
আহত অবস্থায় তাকে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।হাতি টিক গ্রামের মানুষেরা পাশের জঙ্গলে ড্রাইভ করে দেয়। কিন্তু হাতিটি রাজ্য সড়ক থেকে সরে গেলেও জঙ্গলের ভিতর দিয়ে গিয়ে শিরষি গ্রামে ঢোকে। সেই গ্রামে দুলাল মাহতো নামে এক যুবক আহত হয় হাতিটির আক্রমনে।
দুলাল মাহাতোর দাদা প্রিয়রঞ্জন মাহাতো বলেন “ ভাই জামিতে ধান দেখতে গিয়েছিল।সেই সময় দাঁতাল হাতিটি জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে আসে। ভাই হাতিটির সামনে পড়ে যায়।শুঁড় দিয়ে ধাক্কা মেরে ফলে দেয়।পড়ে যাওয়ার পর হাতিটি ভাইকে দেখতে না পেয়ে চলে যায়।
ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। শালবনির রাস্তার ঘটনার পরই হাতিটি আমাদের গ্রামে ঢুকেছিল।”পিকআপ ভ্যানটির চালক নিরঞ্জন বারিক বলেন “ রাস্তার উপরে হাতি দেখে সব গাড়ি গুলি সার দিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।আমিও গাড়িতেই ছিল।হঠাৎ করে হাতিটি এসে ধাক্কা মারে ।এক জোরে ধাক্কা মারে যে গাড়ি উল্টে যায়।অল্পের জন্য প্রানে বেঁচেছি।”এই বিষয়ে ঝাড়গ্রাম বনদফতরের আধিকারিক বাসবরাজ হোলেইচ্ছি বলেন “ বেশির ভাগ হাতি ফিরে গিয়েছে।দু একটি স্থায়ী হাতি রয়েছে। আমরা মনিটারিং করছি।


