পুজোয় তালের খোঁজে তালবাগানে

< 1 - মিনিট |

তাল থেকে যেমন ফল হয় তেমনই তালের বড়া হয়, তালের লুচি কতরকমের সুস্বাদু খাবার হয়, আবার তাল পাতার সেপাই একসময় বাচ্চাদের খেলনার জিনিস ছিল

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

হাতিবাগানে হাতি বা উল্টোডাঙায় উল্টোডিঙ্গির খোঁজ না মিললেও তালবাগানে তালের খোঁজ মিলবেই মিলবে। কারণ কসবা তালবাগানে কিন্তু এবার পুজোয় তাল মিলবে। কারণ সেখানকার এবারের থিম তাল সর্বস্ব।

তাল পাতা থেকে শুরু করে, তাল পাতার পাখা সব কিছু দিয়েই মণ্ডপ সাজাচ্ছে তালবাগান। পুজো কমিটির সদস্য কানাই দাস বলেন, ‘প্রথমত গাছ বাঁচানো এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটা গাছের কার্যকরিতা কতটা তা মানুষ জানে কিন্তু বুঝতে চাইছে না। অযাচিত বৃক্ষ নিধন চলছে। সেই জন্যই আমরা গাছের উপর নির্ভর করে আমাদের মণ্ডপ তৈরি করছি।’ 

একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘আমাদের বাজেট কম, কিন্তু সবসময়েই কম বাজেটে ভাল কাজ এবং ভাল সামাজিক বার্তা দেবার চেষ্টা করেছি। সেই ভাবনা নিয়েই এবারেও থিমের লড়াইয়ে আমরা হাজির হয়েছি। সেখান থেকেই তালবাগানে তালগাছ নিয়ে কাজ করার ভাবনা কারণ এই তালগাছের বিবিধ ভূমিকা রয়েছে। 

তাল থেকে যেমন ফল হয় তেমনই তালের বড়া হয়, তালের লুচি কতরকমের সুস্বাদু খাবার হয়। আবার তাল পাতার সেপাই একসময় বাচ্চাদের খেলনার জিনিস ছিল। আজও বিদ্যুৎ না থাকলে বহু বাড়িতে তালপাতার পাখা ব্যবহার করা হয়। তালগাছে বাবুই পাখি বাসা বাঁধে। তালগাছের পাতা দিয়ে নানারকম ছাউনির জিনিষ তৈরি হয়। তাহলে বোঝা যাচ্ছে এক গাছের কতগুলো ভূমিকা রয়েছে মানব এবং জীবরক্ষার ক্ষেত্রে। এই পুরো জিনিসটা মণ্ডপের মধ্যে ফুটিয়ে তুলছেন উদ্যোক্তারা।

কে হলফ করে বলতে পারেন, তালবাগানের পুজো দেখতে দেখতে মনে পড়ে যাবে না বিশ্বকবির সেই সুন্দর ছড়াটা— ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে। মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়, একেবারে উড়ে যায়, কোথা পাবে পাখা সে।’ তালবাগানের পুজোকমিটি অত ভেবেছে কিনা তা জানা যায়নি। 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *