অসম বৈভব, অসম সৌরভ ও অসম গৌরবের প্রাপকদের নাম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার; ২০২৫ সালের পুরস্কার দেওয়া হবে ডিসেম্বরে, ২০২৬ সালের সম্মান প্রদান আগামী বছরের জানুয়ারিতে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি:স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অসমের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘অসম বৈভব’ পাচ্ছেন শ্রীমন্ত শঙ্করদেব নেত্রালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও সভাপতি চিকিৎসক হর্ষ ভট্টাচার্য। ২০২৫ সালের অসম বৈভব, অসম সৌরভ ও অসম গৌরব পুরস্কারের জন্য মোট ১৭ জন ব্যক্তি ও সংস্থাকে বেছে নিয়েছে রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য পরিষেবা, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, খেলাধুলা, কৃষি, সংস্কৃতি ও উদ্যোগপতির কাজ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার লোকসেবা ভবনে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর পুরস্কারপ্রাপকদের নাম ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি জানান, গত বছর ২০২৫ সালের পুরস্কারগুলি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এ বার সেই তালিকা ঘোষণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ডিসেম্বরে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের পুরস্কারপ্রাপকদের নাম আগামী এক মাসের মধ্যে ঘোষণা করা হবে এবং তাঁদের সম্মান জানানো হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।
পুরস্কারপ্রাপকদের বাছাইয়ের জন্য গঠিত মন্ত্রিসভার উপকমিটিতে ছিলেন কেশব মহন্ত, অজন্তা নেওগ, রণোজ পেগু ও জয়ন্ত মল্লবরুয়ার মতো মন্ত্রীরা।
অসম বৈভব পাচ্ছেন চিকিৎসক হর্ষ ভট্টাচার্য
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিশেষত চক্ষু চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে তোলায় অবদানের জন্য হর্ষ ভট্টাচার্যকে অসম বৈভবের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। শ্রীমন্ত শঙ্করদেব নেত্রালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও সভাপতি হিসেবে তিনি অসমে বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অসম সরকারের প্রবর্তিত তিনটি নাগরিক সম্মানের মধ্যে অসম বৈভব সর্বোচ্চ। এই সম্মান রাজ্যের উন্নয়ন ও জনজীবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিত্বদের দেওয়া হয়।
অসম সৌরভ পাচ্ছেন চার বিশিষ্ট ব্যক্তি
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, শিল্প-সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চার জনকে অসম সৌরভ সম্মানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—
- ডা. কুশল কোঁৱৰ শৰ্মা: পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ।
- নূরুদ্দিন আহমেদ: শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের জন্য পরিচিত পদ্মশ্রী প্রাপক।
- পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়: সঙ্গীতজগতে অবদানের জন্য নির্বাচিত শিল্পী।
- ডা. পূর্ণিমা দেবী বর্মন: হাড়গিলা পাখি সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য পরিচিত বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকর্মী।
এই তালিকায় বন্যপ্রাণ রক্ষা থেকে শুরু করে অসমের শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রাখার মতো নানা ক্ষেত্রের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
অসম গৌরবে ক্রীড়া, কৃষি ও উদ্যোগের স্বীকৃতি
অসম গৌরব পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত ১২ জন ব্যক্তি ও সংস্থার তালিকায় রয়েছেন ক্রীড়াবিদ, কৃষি উদ্যোগপতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্ত ব্যক্তি এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোগীরা।
পুরস্কারপ্রাপকেরা হলেন—
১. দেবী প্রসাদ বাগরোদিয়া
২. ফুটবলার হলিচরণ নার্জারি
৩. দৃষ্টিহীন ক্রিকেটার সীমু দাস
৪. সফল পাম তেল চাষের জন্য হরকান্ত বসুমতারি
৫. পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ধনজিৎ তালুকদার
৬. খাদ্য ও পর্যটন উদ্যোগপতি নিবেতিয়া ইয়েন
৭. দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার ময়ং চক্রবর্তী
৮. কার্বি আংলঙে আদা চাষের জন্য পরিচিত কৃষি উদ্যোগপতি জিতেন সরংফাংসা
৯. ‘লাখপতি বাইদেউ’ হিসেবে স্বীকৃত তনুমায়া সোনার বিশ্বকর্মা
১০. লখিমপুরে পর্যটন ও ভ্রমণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দিকপাল লাহন
১১. বেসরকারি সংস্থা কোলং কপিলি
১২. কৃষক উৎপাদক সংস্থা পদুম পথর অ্যাগ্রো অর্গানিক প্রডিউসার কোম্পানি লিমিটেড।
এই তালিকায় ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে যুক্ত সংগঠনগুলিকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। কৃষিতে নতুন উদ্যোগ, ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ, খেলাধুলা এবং পর্যটন—সব মিলিয়ে রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অবদানকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে সরকার।
পরের বছরের পুরস্কার ঘোষণা এক মাসের মধ্যে
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের পুরস্কারপ্রাপকদের নাম এক মাসের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পুরস্কার দেওয়া হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এবং পরের বছরের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।
ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চলেছে অসম সরকার।


