মাসের শেষে লক্ষ্মীপুজো, শিলচরের ঊর্ধ্বমুখী বাজারদরে পকেটে টান মধ্যবিত্তের

2 - মিনিট |

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে কাছাড়ের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় আনাজ ও ফলের দাম নিয়ে চিন্তায় মধ্যবিত্ত। উৎসবের চাহিদা, পরিবহণ খরচ ও পাইকারি বাজারের দরের প্রভাব খুচরো বাজারে কতটা পড়ছে, নজর ক্রেতাদের। মাসের শেষের টানাটানিতে পুজোর কেনাকাটায় হিসেব কষতে হচ্ছে পরিবারগুলিকে।

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

শিলচর: মাসের শেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে দেবী আরাধনার প্রস্তুতি শুরু হলেও বাজারদরের চাপে সেই প্রস্তুতিতেই পড়ছে টান। ফল, নারকেল, কলা থেকে শুরু করে ভোগের আনাজ—পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলিকে। শিলচর-সহ কাছাড়ের বিভিন্ন বাজারে ফল ও সবজির সাম্প্রতিক দর যাচাই করে কেনাকাটা সারতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে মাসের শেষ সপ্তাহে সংসারের খরচ সামলে পুজোর বাজার করা মধ্যবিত্তের কাছে বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লক্ষ্মীপুজোয় ফলের নৈবেদ্য, নারকেলের নাড়ু এবং ভোগের আনাজের চাহিদা থাকে। ফলে পুজোর আগে বাজারে কেনাকাটার চাপ বাড়ে। কিন্তু আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে অনেক পরিবারকেই এবার পুজোর তালিকা ছোট করার কথা ভাবতে হচ্ছে। কলকাতার শিয়ালদহ ও কোলে মার্কেটের বাজারদরের ছবিতেও ফল ও সবজির দাম চড়া থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে সেই দর সরাসরি শিলচরের বাজারের দর নয়। বরাক উপত্যকার ক্রেতাদের জন্য স্থানীয় বাজারের দামই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করছে পুজোর খরচ।

ফল কিনতেই বাড়তি খরচ

লক্ষ্মীপুজোর নৈবেদ্যে ফলের গুরুত্ব থাকায় পুজোর আগে এই পণ্যগুলির চাহিদা বাড়ে। আপেল, কলা, বাতাবি লেবু, আঙুর, ডালিম, কমলালেবু ও আনারসের মতো ফল কিনতে গিয়ে বাজেটের হিসেব নতুন করে কষতে হচ্ছে বহু পরিবারকে।

কলকাতার বাজারে আপেল কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, আঙুর ২০০ টাকা এবং ডালিম ২৫০ টাকা দরে বিক্রির খবর মিলেছে। একটি বাতাবি লেবুর দাম ৬০ টাকা এবং একটি আনারসের দাম ৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তবে এই দর কলকাতার বাজারের। শিলচরে একই ফলের দাম কত, তা স্থানীয় বাজারে যাচাই করা জরুরি। পরিবহণ খরচ, সরবরাহ এবং ফলের মানের কারণে বাজারভেদে দামে পার্থক্য থাকতে পারে।

পুজোর বাজারে একসঙ্গে অনেক ধরনের ফল কিনতে হয়। প্রতিটি ফল অল্প পরিমাণে নিলেও মোট খরচ বেড়ে যায়। ফলে নৈবেদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ফল কিনতে গিয়েই সংসারের নির্ধারিত বাজেটের বড় অংশ খরচ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

ভোগের আনাজেও নজর ক্রেতাদের

শুধু ফল নয়, ভোগ রান্নার আনাজ কেনার ক্ষেত্রেও হিসেব কষতে হচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, পেঁয়াজ, বেগুন, পটল, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়শ ও লঙ্কার মতো সবজি পুজোর বাজারে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নারকেলের নাড়ু তৈরির জন্য নারকেলও কিনতে হয়।

কলকাতার বাজারে মাঝারি ফুলকপি পিছু ৩০ টাকা, বড় ফুলকপি ৬০ টাকা, বাঁধাকপি কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা এবং বেগুন ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রির খবর পাওয়া গিয়েছে। আলু তুলনামূলক সস্তা, কেজিপ্রতি ১৫ টাকা। নারকেলের দামও পিছু ৩০ থেকে ৪০ টাকা বলে জানা গিয়েছে।

তবে শিলচর ও কাছাড়ের বাজারে এই দর কতটা কার্যকর, তা স্থানীয় খুচরো বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কলকাতার দামকে বরাক উপত্যকার বাজারদরের প্রতিফলন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। স্থানীয় সরবরাহ, পাইকারি আড়তের দর এবং পরিবহণ ব্যয়ের ওপর শিলচরের বাজারে আনাজের দাম নির্ভর করে।

মাসের শেষে পুজোর বাজেটে কাটছাঁট

উৎসবের আগে বাজারে চাহিদা বাড়লে খুচরো দরে তার প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের যুক্তি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যোগ করে কম দামে বিক্রি করা কঠিন। অন্যদিকে ক্রেতাদের বক্তব্য, উৎসবের খরচের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, ওষুধ, পড়াশোনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যয় সামলাতে গিয়েই মাসের শেষে টান পড়ে। তার ওপর পুজোর বাজারে অতিরিক্ত খরচ হলে সংসারের হিসেব আরও কঠিন হয়ে যায়।

শিলচরের বাজারেও ক্রেতাদের কাছে এখন প্রধান প্রশ্ন, সীমিত টাকায় কীভাবে পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা সম্ভব। ফল ও আনাজের দাম যাচাই করে কেনাকাটা করা, একাধিক দোকানে দর তুলনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

লক্ষ্মীপুজো ঘিরে বাজারে কেনাকাটার চাপ আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে। তবে শিলচর ও কাছাড়ে ফল-সবজির বর্তমান দর এবং পুজোর আগে দাম বাড়ার প্রবণতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে স্থানীয় বাজারের হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত বাজারদর কতটা বাড়বে, তার ওপরই নির্ভর করবে বহু পরিবারের পুজোর বাজেট কতটা কাটছাঁট করতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *