কেআরসি টাইমস বাংলা প্রাইম টাইম

4 - মিনিট |

১ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হরিয়ানা একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু
২ লোহার পোয়ায় শম্ভু কৈরীর হত্যাকারীর ঘরে বুলডোজার চালানোর দাবি বজরং দলের
৩ ইউপি আমাদের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের নাম বদলে ফেলল মোদি সরকার

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

সংবাদ 1 – গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হরিয়ানার পানিপথে মৃত্যু হল একই পরিবারের ৬ জনের। বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর এসে পৌঁছয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জাকির বসতিতে। দিল্লির এক আত্মীয় তাঁদের ফোনে এই দুঃসংবাদ জানান। পরিবারের এতজনকে এভাবে হারানোর খবরে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার। তবে দেহ আনা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসলামপুরের গাইসল ১ নং পঞ্চায়েতের জাকির বসতি এলাকা। সেখানকার বাসিন্দা মহম্মদ সুলতানের ছেলে করিম বছর দুই আগে নিজের পরিবার নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন হরিয়ানায়। পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে ছিল। পানিপথে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন করিমরা। সেখানে লেপ-তোষক তৈরির কাজ করতেন করিম ও তাঁর স্ত্রী আফরোজ বেগম।

সংবাদ 2- লোয়াইরপোয়া শম্ভু কৈরির হত্যাকারীর ঘরে বুলডোজার চালানো হোক তাকে ইন কাউন্টার করা হোক এই মন্তব্য রাষ্ট্রীয় বজরং দলের । গত ৮ তারিখ লোয়াইরপোয়া তে বজরং দলের সদস্য শম্ভু কৈরির হত্যাকারী সেলিম উদ্দিনের ঘরে সরকার বুলডোজার চালনো হোক। এই দাবির পরোপেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কাছাড়ের জেলাশাসকজেলাশাসকের কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় বাজরং দল ও অন্তরাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদের কর্মকর্তারা স্মারকলিপি দেন । তারা সরকারের কাছে দাবি করেন শম্ভু কৈরীর পরিবারকে পঞ্চাশ লক্ষ্য আর্থিক সাহায্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় যাতে ।

Register your business, organisation, and services in ‘InfoCom Silchar Diary’
e-mail: infocom.krc@gmail.com
Know More | Apply Here

সংবাদ 3- ইউপিএ সরকারের আমলে ঘোষিত জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের নাম বদলে দিল মোদি সরকার এবার থেকে এই প্রকল্পের নাম হবে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা‌।ইউপিএ সরকারের আমলে ঘোষিত জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের নাম বদলে দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। এবার থেকে এই প্রকল্পের নাম হবে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’। এই প্রকল্পের অধীনেই দেশের ৮১ কোটি গরিব মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে। গত বছরের শেষ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোভিড পরিস্থিতির পর শুরু করা বিনামূল্যে অতিরিক্ত রেশন দেওয়ার প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঠিক হয়েছিল, আগামী এক বছর জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী পাঁচ কেজি করে খাদ্যশস্য বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ইউপিএ আমলে চালু হওয়া আইনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনাকে। মনমোহন সিং সরকারের চালু করা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের নাম বদলে কোভিডের সময় যে প্রকল্প চালু হয়েছিল, তার নাম ‘প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা’ করে দেওয়া হল। এত দিন যে চালের জন্য প্রতি কেজি ৩ টাকা, গম প্রতি কেজি ২ টাকা নেওয়া হত সেই খাদ্যশস্য এই প্রকল্পের অধীনে দেওয়া হবে বিনামূল্যে।

সংবাদ 4- যোশিমঠ নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে পাহাড়ি জনপদে বুধবার রাতে এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি জনপদে যোশিমঠ ঘিরে আতঙ্ক বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৭৩টি বাড়ি পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ফাটল দেখা গিয়েছে। ১৩১টি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপদ জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বুধবার রাতে এলাকা পর্যবেক্ষণে আসেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে দ্রুত যোশিমঠে আসেন ধামি। বিপর্যস্ত এলাকা তিনি খতিয়ে দেখেন। ত্রাণশিবিরেও যান তিনি। সেখানে তিনি আশ্বাস দেন, যে সব বাড়ি ভাঙা হবে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বাজারদর মেনেই। এপর্যন্ত দেড় লক্ষ টাকা করে প্রাথমিক আর্থিক সাহায্য দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার।এদিকে ধামি জানিয়েছেন, বাড়ি ভাঙা ও আর্থিক সাহায্যের অঙ্ক নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে কেবল দু’টি হোটেল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনও বসতবাড়ি ভাঙার পরিকল্পনা এখনও পর্যন্ত সরকারের নেই।

সংবাদ 5- নারী শক্তির পবিত্রতা ও মাতৃত্বে গুরুত্ব দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, বললেন গনধিশানন্দ মহারাজ।কেআরসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৪ টি সংগঠনকে সংবর্ধনা।মাতৃ শক্তি জাগ্রত করার চেষ্টা করে গেছেন স্বামী বিবেকানন্দ। নিপীড়িত ভারতবর্ষে নারী জাতিকে জাগ্রত করার জন্য তিনি খুঁজেছিলেন একজন তেজস্বী নারী কে। সেই নারী হিসেবে তিনি খুঁজে পেয়েছিলাম ভগিনী নিবেদিতা কে। স্বামী বিবেকানন্দের ১৬১ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে শিলচর প্রেস ক্লাবে কে আর সি ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষনে এই মন্তব্য করেন শিলচর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী গনধিশানন্দ মহারাজ।

তিনি বলেন, নারী জাতিকে জাগ্রত হতে হবে কিন্তু সঙ্গে পবিত্রতা ও মাতৃত্ব রাখতে হবে। নারীর মাতৃত্ব শক্তি না থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম বিকশিত হয় না। আর স্বামী বিবেকানন্দ এই চেষ্টাই করে গেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ চেয়েছিলেন যুবশক্তি জাগ্রত হোক তাই তারা রচনাবলিতে আমরা পাই যুব শক্তিকে জাগ্রত করার জন্য তিনি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে কেআরসি ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে চয়ন ভট্টাচার্য বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ সারা ভারতবর্ষকে এক সূত্রে বেঁধে রাখা যে ভারতীয়ত্ব সেই ভারতীয়ত্বের কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে ন।

কেআরসি ফাউন্ডেশন স্বামী বিবেকানন্দের এই আদর্শকে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি শিলচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে বলেন ,শুধুমাত্র স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম দিবস পালন করলেই হবে না। স্বামী বিবেকানন্দ যে মানবতাবাদের কথা বলে গেছেন সেটা রক্ষা করতে হবে। তিনি যেভাবে হিন্দুত্বের উদারতাকে সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেটাকে মেনে চলতে হবে।

অনুষ্ঠানের অতিথি বিশিষ্ট সমাজকর্মী বিবেক পোদ্দার বলেন, বিবেকানন্দের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। বরাক উপত্যকার প্রেক্ষাপটকে বিবেকানন্দের আদর্শের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি বলেন আত্মশক্তি থাকলে উন্নতি করা সম্ভব। একটা সময় ব্যাঙ্গালোরে কিছুই ছিল না কিন্তু শুধুমাত্র আত্মনির্ভরতা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আজ কোথায় পৌঁছে গেছে এই জায়গা। এই শিলচরকেও ব্যাঙ্গালোর বানানোর সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। একইভাবে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শকে নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার কথা বলে বক্তব্য রাখেন আকসার উপদেষ্টা রূপম নন্দী পুরকায়স্থ।

অনুষ্ঠানে কে আর সি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সমাজ সেবায় অবদানের জন্য শহরের ১৪ টি সংগঠনকে মানপত্র ও স্মারক দেওয়া হয়। সংগঠন গুলি হল দৃষ্টি অ্যাসোসিয়েশন, সুবীর এন্ড ফ্রেন্ডস, বিহান, প্রয়াস ,জয় রাধা সেবা সমিতি, উদয়ের পথে, সংঘ চল মিলাপ, ইয়ং মাইন্ড অ্যাসোসিয়েশন, হিউমেন্স অফ শিলচর ,রবিনহুড আর্মি ,নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থা, হৃদয় সামাজিক সংস্থা,আর্য সংস্কৃতি বধিনী সমিতি ও লাইফ লাইন ফর এভার ফাউন্ডেশন। এই সংগঠনগুলির হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্বামী গণধিনন্দ মহারাজ, শংকর দে ,বিবেক পদ্মার সৌমিত্র দত্ত রায়, হারান দে ,রসরাজ দাস পিনাকপানী নাথ, রূপম নন্দী পুরকায়স্থ প্রমূখ।

উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী বাপি রায়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিপ্লব দেবনাথ ও পল্লবীতা শর্মা। অনুষ্ঠান সুস্থভাবে পরিচালনায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন কার্তিক ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ও নেতাজীর ছাত্র যুব সংস্থার জয়দীপ চক্রবর্তী । শহরের সংগঠনগুলো যেভাবে মানুষের পাশে এগিয়ে আসছে সেই কাজে তাদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয় কেআরসি ফাউন্ডেশন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *