এক নজরে বরাক
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
সংবাদ 1 – ধলাইর জঙ্গলে সবজি আনতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন জইবা রিয়াং নামের এক প্রাক্তন জঙ্গি নেতা। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব ধলাইর চেকারভাম-হাতিখাল এলাকায়। উল্লেখ্য আসাম সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে থাকা রাজেশ চর্কি নেতৃত্বাধীন ব্রু রেভোলিউশনারী আর্মি অব ইউনিয়ন নামের রিয়াং উগ্রপন্থী দলের স্থানীয় জঙ্গি নেতা ছিলেন জইবা রিয়াং। দু বছর আগে জঙ্গি দলটি সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে এসে বরাকের তিন জেলায় দফায় দফায় অস্ত্র সমর্পন করে। এসময় জইবা রিয়াংও অন্যান্য দের সঙ্গে আত্মসমর্পন করেন।
জইবা রিয়াংয়ের অন্তর্ধানের ঘটনা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। তার নিখোঁজের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তার কোনও সন্ধান মিলছে না। মামলা পেয়ে পালংঘাট ফাঁড়ির পুলিশ উদ্ধার অভিযান জারি রেখেছে। এদিকে জইবা রিয়াংয়ের নিখোজের ঘটনা নিয়ে মনিয়ারখাল জিপির এপি সদস্য অভিজিত মাজি ও আনন্দখাল গ্রামের জয়ন্ত মুড়ার পরস্পর বিরোধী মন্তব্য নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। বুধবার অভিজিত মাঝি পালংঘাট পুলিশকে বলেন পাহাড়ের হড়হড়িখালে জইবাকে দেখা গেছে বলে তাকে জানান জয়ন্ত মুড়া নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু পুলিশ তার বাড়িতে গেলে অস্বীকার করেন জয়ন্ত মুড়া। ঘটনাটি যাচাই করতে বৃহষ্পতিবার এপি সদস্য অভিজিত মাজি, জয়ন্ত মুড়া ও তার মেয়ের জামাই রাম মুড়াকে থানায় তলব করেছে পুলিশ।
সংবাদ 2 – বৃহস্পতিবার সকালে সম্পন্ন হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পশ্চিম কাছাড় জেলা আয়োজিত সাত দিবসীয় প্রাথমিক শিক্ষাবর্গ। এদিন দীক্ষান্ত সমারোপের পর রামনবমী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য পথ সঞ্চলনের আয়োজন করা হয়। দিগরখাল এমই স্কুল থেকে পথ সঞ্চলন শুরু হয়ে কাশীবন ও দিগরখাল চা বাগান পরিক্রমা করে ফের এমই স্কুলে সমাপ্ত হয়। এতে সংঘের চিরাচরিত বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে স্বয়ংসেবকরা পূর্ণ গণবেশে সঞ্চলনে পা মেলান। সঞ্চলন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে মহিলারা শঙ্খধ্বনী উলুধ্বনী সহ ফুল ও আবির ছিটিয়ে গৈরিক ধ্বজকে বরণ করেন।
সংবাদ 3 – নবরাত্রির নবম দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রামনবমী পালিত হয়। হিন্দুশাস্ত্রে এই দিনটির অনেক গুরুত্ব আছে।বিগত দুই বছর ধরে রাষ্ট্রীয় শ্রীরামসেনা শিলচর সোনাই রোডে সার্বজনীন ভাবে রাম নবমী পালন করে আসছেন বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যসূচীর মাধ্যমে। এবছরও সকাল থেকে থাকে শ্রীরাম পূজা,এরপর দুপুরে রামমূর্তি নিয়ে শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে এক বিরাট শোভাযাত্রার মাধ্যমে শিলচর শহরের বিভিন্ন রাস্তা পদক্ষীণ করা হয় এবং পরেরদিন ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরন করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রীয় শ্রীরাম সেনার সভাপতি দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য্য,সহ-সভাপতি জিৎ দাশগুপ্ত,সম্পাদক সপ্তম শীল,কার্যকারী সদস্য শিবম শীল,রিমো দেব,সেন্ডি দে সহ আরো অন্যান্যরা।
সংবাদ 4 – বৃষ্টি নামতেই লালা শহরের মখা লস্কর রোডের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন থেকে এই রোড বেহাল হয়ে উঠলেও সংস্কারের কোনও হেলদোল নেই। অথচ এই মখা লস্কর রোড দিয়ে রোজদিন শত শত লোক লালা শহরে যাতায়াত করেন। বৃহত্তর নিজবর্ণারপুর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড,লালারপার ইত্যদি গ্রামের মানুষের চলাচল করার একমাত্র অবলম্বন এই রাস্তা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি আবার লালা শহরে থাকলেও এ পর্যন্ত কোনও সংস্কার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শুকনো মরসুমে কোনওক্রমে চললেও বর্ষা এলেই এই রোড দিয়ে চলাচল অসম্ভব হয়ে উঠবে। অবস্থা এতোটাই বেহাল যে বর্ষা নামলে লোকজন চলাচলের উপায় থাকবে না বলে স্থানীয় অনেকের অভিমত। একসময় এই রোডের কিছুটা সংস্কার হলেও এখন অবস্থা তথৈবচ। এই রোড দিয়ে নিত্যদিন স্কুল-কলেজের পড়ুয়া,কচিকাঁচা ও রোগীদের নিয়ে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে খুব কষ্ট করতে হয়। রাস্তাটির এই বেহাল অবস্থার জন্য অনেকে দায়ী করছেন পুরসভাকে। লালা পুরসভার সদিচ্ছার অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ রোডটি বেহাল হয়ে উঠেছে।
সংবাদ 5- কাটাখালের বাঁধ সংস্কারের কাজে দুর্নীতি নিয়ে সরব হলো দুটি সংগঠন। শীঘ্র কয়েক কোটি টাকার সংস্কারের কাজের তদন্তের দাবি জানিয়েছে মাইমাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অব আসাম (মোসা)-র কেন্দ্রীয় কমিটি ও ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস-এর অসম রাজ্য কমিটি। বুধবার মোসা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজি নজমুল হাসান ও ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস -এর রাজ্য সাংগঠনিক সম্পাদক আকাশ দাশ কাটাখালে জলসম্পদ বিভাগের কয়েক কোটি টাকার বাঁধ সংস্কারের কাজ পরিদর্শন করেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে মোসা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজি নজমুল হাসান ও ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস-এর রাজ্য সাংগঠনিক সম্পাদক আকাশ দাশ ক্ষোভের সুরে জানান,কাটাখালে বাঁধ সংস্কারের নামে কয়েক কোটি টাকার কাজে লাগামহীন দুর্নীতি নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব জলসম্পদ বিভাগ।
বিভাগীয় আধিকারিকদের যোগসাজশে ঠিকাদার কাজে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।তারা বলেন,সোমবার সকালে জিওব্যাগে ঠিকাদারের দুর্নীতি হাতেনাতে ধরেন জলসম্পদ বিভাগের এসডিও পূর্ণেন্দু চন্দ,জেই সঞ্জয় গোয়ালা ও এসও সুমন দেব। পরে আধিকারিকরা পলিমাটি মিশ্রিত জিওব্যাগ পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। রহস্যজনকভাবে এখানেই দায়িত্ব শেষ করে দেন তারা। ঠিকাদার রাজু চৌধুরীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং তদন্তের বিষয় নিয়ে কিছুই বলেননি বিভাগীয় কর্তারা। তারা আরও বলেন, বিভাগীয় আধিকারিকরা পলিমাটি মিশ্রিত জিওব্যাগ পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেও এখনও দেখা গেছে ওই মাটিভর্তি জিওব্যাগ দিয়ে কাজ চলছে।



