এক নজরে বরাক
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
সংবাদ 1 – আম আদমি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবর্গের উপস্থিতিতে রবিবার শিলচরের এক অভিজাত হোটেলে দলের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির রাষ্ট্রিয় অধ্যক্ষ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কর্মকাণ্ড ও যোগ্য নেতৃত্বে উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন দল সংগঠন ছেড়ে ৫০এরও অধিক যুবক এদিন দলে যোগদান করেন। সভায় মাধ্যমে কাছাড় জেলায় দলের অগ্রগতি সহ আগামী দিনের রূপরেখা ও আসন্ন বিভিন্ন কর্মসূচি সহ সাংগঠনিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পার্টির রাষ্ট্রিয় তত্ত্বাবধায়ক রাজেশ শর্মা জানান, গোটা দেশে আম আদমি পার্টি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের ১৫০০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আপ দেশে তৃতীয় রাষ্ট্রিয় দল হিসেবে কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় রাজনিতীতে বরাক উপত্যকা অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলেও এদিন জানান তিনি।
সংবাদ 2- শুক্রবার একটি অবিশ্বাস যোগ্য ঘটনা ঘটে গেলো ধলাই থানা এলাকার কাবুগঞ্জ বাজারে । কাবুগঞ্জের পার্শ্ববর্তী গ্রাম ষোল নম্বরের বাসিন্দা যুথিকা দাস ওরফে দীপ্তাকে বাড়িতে ডেকে শারীরিক নির্যাতন চালালো কাবুগঞ্জ বাজার এলাকার চুমকী পালের স্বামী সুধেন্দু পাল ওরফে সিখু ও চুমকী পালের জা সহ অপর তিন পুরুষ। চুমকী পাল ও যুথিকা দাসের পরিবারের অনেক আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
যুথিকা নরসিংহপুর গোলকনাথ পাঠশালায় তার একমাত্র কন্যা সন্তানকে পড়ানোর পাশাপাশি তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সচীদানন্দ নাথ স্বরসতী যুথিকাকে ক’ মানের পাঠ দানের অনুরোধ জানান। যুথিকা ওরফে দীপ্তা ও যথারীতি পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রের গৃহশিক্ষিকার কাজ করে আসতো। যুথিকা ওরফে দীপ্তা পাঁচ বছর ধরে চুমকী পালের কন্যা ঈশিতা পালের গৃহশিক্ষিকার কাজ করে আসছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি মোবাইল ফোন নিয়ে।
গত বুধবার চুমকী পাল একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল কিনে যুথিকা ওরফে দীপ্তাকে দেখাতে চাইলে আচমকা যুথিকার হাত থেকে মোবাইলটি জলে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। যুথিকা মোবাইলটি মেরামতের দায়িত্ব নেয় ও মোবাইল ফোনটা মেরামতির জন্য নিয়ে যায়। শুক্রবার হঠাৎ করে চুমকী পাল মোবাইল ফোনের সিমকার্ড চেয়ে তার বাড়িতে যুথিকাকে ডেকে নেয় । এর পর চুমকী পালের সামনে তার স্বামী সুধেন্দু পাল যুথিকাকে মারধোর করতে থাকে।
চুমকী বাঁধা দিলে তাকে একটি ঘরে বন্দি করে রাখে স্বামী সুধেন্দু পাল । তার পর চুমকীর স্বামী সুধেন্দু পাল ও চুমকীর জা সহ অপর তিনজন পুরুষ মিলে যুথিকার হাত পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালায়। অবশেষে চুমকীর পরিবার থেকে নরসিংহপুর গোলক নাথ পাঠশালায় খবর দেওয়া হয় । তৎক্ষণাৎ গোলক নাথ পাঠশালার কতিপয় শিক্ষক ঘঠনা স্থলে পৌছে যুথিকাকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান যুথিকা দাস। এর পর একটি কাগজে যুথিকার সহি নিয়ে নেওয়া হয় । এনিয়ে যুথিকার ভাই স্বপন দাস সুবিচার চেয়ে ধলাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ তদন্তে নেমে পড়েছে।
সংবাদ 3- বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নের জেনারেল কাউন্সিল সভার মাধ্যমে সভাপতি পদে সাংসদ কৃপানাথ মালা ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন প্রাক্তন বিধায়ক রাজদীন গোয়ালা। শিলচরে ইউনিয়নের কার্যালয়ে দিনভর সরগরম সভার পর নতুন কমিটির পদাধিকারিরা মনোনীত হন।প্রাক্তন মন্ত্রী অজিত সিং সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে কার্যকরী সভাপতি হন।
সংবাদ 4 – মুখ্যমন্ত্রীর জনহিতে বিশেষ প্রকল্প অরুণোদয় তালিকা থেকে প্রকৃত হিতাধীকারিদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে সরব ইন্দ্রগড় জিপির অসহায় মহিলারা।তারা তথ্য হিসেবে অরুণোদয়ের তালিকা তুলে ধরে সংবাদ মাধ্যমে জানান, ওই জিপিতে সরকারী প্রকল্প বিভিন্ন প্রকল্প প্রকৃত হিতাধীকারিদের বাদ দিয়ে স্বজনপোষণ চলছে।
এমনকি অরুণোদয় ২.০ তালিকায় জিপির মেম্বাররা রয়েছেন।অথচ অসংখ্য আর্থিক দুর্বল পরিবার আবেদন করলেও পরে হবে বলে জিপি সচিব তাদেরকে আশ্বাস দেন বলে জানান দূর্নীতির বিরুদ্ধে সরব ওই মহিলারা।গোটা বিষয়টি তুলে ধরে তদন্তের দাবিতে লিখিত স্মারকপত্র ও প্রদান করেন জেলাশাসককে।

সংবাদ 5 – শহর শিলচর তথা এ অঞ্চলে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে কর্মরত সকল সাংবাদিক এবং বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানালো শিলচর প্রেস ক্লাব। শনিবার, শিলচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভোর রাতে মেহেরপুর বটেরতল এলাকায় প্রেরণা ভারতী এবং বার্তালিপি পত্রিকার মুদ্রণ বিভাগের দুই কর্মী জওহর রায় টিকন , মিঠুন দাসকে দুর্বৃত্তরা আক্রমণ করে যে ভাবে তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল , টাকা সহ বিভিন্ন সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যায় , সেটা অত্যন্ত উদ্বেগ এবং গভীর আশঙ্কার বিষয় ।
সেই সময় পেছনে থাকা অন্য সংবাদকর্মীরা এক দুর্বৃত্তকে ধরতে সক্ষম হওয়ায় পরে পুলিশ ক’জনকে আটক করে ।সাংবাদিক এবং অন্য কর্মীদের রাতবিরেতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে সকলেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন । পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে , সাম্প্রতিককালে শিলচর সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে চুরি , ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে । ছিনতাইবাজরা বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে মোবাইল ও নানা মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।
অরাজকতা তৈরি হয়েছে বহু ক্ষেত্রেই।এই পরিস্থিতিতে সর্বত্র পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানাচ্ছে শিলচর প্রেস ক্লাব।চোর, ডাকাত, ছিনতাইবাজ , দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে সাংবাদিক সহ নাগরিক-জীবনে যথাযথ নিরাপত্তা এবং আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে , শিলচর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এই জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে ।



