শিলচরে বরাক মনিপুর ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভার অভিমত
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর: কেন্দ্রীয় সরকারের লুক এক্ট পলিসিকে কাজে লাগিয়ে বরাক উপত্যকা ও মনিপুরের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। আজ আজ শিলচরে বরাক মনিপুর ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভায় বরাক মনিপুর:ক্যাটালিস্ট টু এক্ট ইস্ট পলিসি অফ গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া”শীর্ষক আলোচনায় প্রধান বক্তা মুখ্য অতিথি মনিপুরের বিশিষ্ট উদ্যোগপতি বাবিনা গ্রুপ অব হোটেলস কম্পানিজের চেয়ারম্যান ডাক্তার ডাবলি সিং বলেন,বরাক ও মনিপুরের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। সরকারের নতুন নীতিতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ক্ষেত্রে মনিপুর ও বরাক বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে।

এছাড়া দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির আদান প্রদান অত্যন্ত জরুরী। বরাক মনিপুর ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন এক্ষেত্রে এক বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মনিপুরের অনেক বৈশিষ্ট্য থাকার পরেও নানা কারণে অর্থনৈতিক উন্নতি সেই ভাবে হচ্ছে না। ঠিক একইভাবে বরাক উপত্যকার অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না। কিন্তু পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই উন্নয়ন করা সম্ভব হলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কেআরসি ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি বিশ্বদ্বীপ গুপ্তর পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মনিপুরের আরেক বিশিষ্ট উদ্যোগপতি ইরাবন্ত সিং বলেন, মনিপুর ও বরাকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেটা প্রয়োজন সেটা হল মানসিকতা বদলানো।

মনিপুর আর বরাকের লোক সংখ্যা সমান হলেও মনিপুরে সমতল জমির পরিমাণ কম। কিন্তু বরাকে প্রচুর সমতল জমি রয়েছে। মনিপুরীদের প্রতিভা রয়েছে পরিশ্রম করার ক্ষমতা রয়েছে আর বরাকের মানুষদেরও কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা ও সততা রয়েছে। তাই এই দুই ক্ষেত্রে ব্যবধান আদান-প্রদানের মাধ্যমে গুছিয়ে দেওয়া যাবে। তিনি বলেন,বরাকের প্রত্যন্ত এলাকায় তিনি গত কুড়ি বছর থেকে আসা-যাওয়া করছেন ।
বরাকের সড়ক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু নিজেদের উন্নয়নের দাবি ছিনিয়ে আনার মত প্রবণতা এখানকার জনগণের নেই। অনেকটা নিরীহ। যার ফলে উন্নতি হচ্ছে না। তাই বরাক ও মনিপুরের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সবার আরেক বক্তা হারান দে বলেন শিলচর ইমফল রোডের উন্নতির জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে এই রোড আরো উন্নতমানের হয়ে গেলে যোগাযোগ ও ব্যবসা ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে।

সভার শুরুতে উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বিশ্বদীপ গুপ্ত বলেন, দেশভাগের ফলে পশ্চিমবঙ্গ সহ অবশিষ্ট ভারতের সঙ্গে ভারতের যে যোগাযোগটা ছিল সেটা ছিন্ন হয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে বরাক ও মনিপুর হয়ে যে যোগাযোগটা ছিল সেটা ছিন্ন হয়ে গেছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন ডাক্তার ডাবলি সিং। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা কে ঘুরিয়ে আনতে হবে। আর বর্তমান সরকার এটাই চাইছে এই সুযোগটা আমাদের নেওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান স্বর্ণালী চৌধুরী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।


