নাগাল্যান্ডে সব বিধায়ক হারিয়ে ধাক্কা, ‘ফিরে আসব’ বললেন কনরাড সাংমা

2 - মিনিট |

এনপিপির পাঁচ বিধায়ক এনপিএফে যোগ দেওয়ায় বিধানসভায় দলশূন্য এনপিপি; সংগঠন পুনর্গঠনের বার্তা দলের সর্বভারতীয় সভাপতির

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

শিলং: নাগাল্যান্ডে পাঁচ বিধায়কই দল ছেড়ে শাসক নাগা পিপলস ফ্রন্টে (এনপিএফ) যোগ দেওয়ায় বড় ধাক্কা খেল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। তবে এই দলবদল উত্তর-পূর্বে দলের রাজনৈতিক বিস্তার থামাতে পারবে না বলে দাবি করলেন এনপিপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা।

৬ অক্টোবর দলের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে সাংমা বলেন, নাগাল্যান্ডে পাঁচ বিধায়ককে হারানোর ঘটনায় তিনি ‘খুবই দুঃখিত’। তবে রাজনীতিতে এমন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ঘটতেই পারে বলে কর্মীদের হতাশ না হয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি।

সাংমার কথায়, “আমরা এতে খুশি নই। এই ঘটনায় আমরা অবশ্যই খুবই দুঃখিত। কিন্তু রাজনীতিতে এমনটা ঘটতে পারে।”

তাঁর বক্তব্য, কঠিন সময়েও দলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং এনপিপির আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। অতীতেও অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের উদাহরণ রয়েছে বলে কর্মীদের মনে করিয়ে দেন তিনি।

১ অক্টোবর এনপিপির পাঁচ বিধায়ক—এ নাইমন্যেই কোনিয়াক, নুক্লুতোশি, সি কিপিলি সাংতাম, ড. তসেইলহৌতো রুতসো এবং বেনেই এম লামথিউ—এনপিএফে যোগ দেন।

এর পর নাগাল্যান্ড বিধানসভার স্পিকার সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী এই দলবদলকে ‘মার্জার’ বা সংযুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর ফলে ৬০ সদস্যের বিধানসভায় এনপিএফের শক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯-এ। এনপিপি বিধানসভায় কোনও বিধায়ক ছাড়াই পড়ে রয়েছে।

বিধানসভায় বিজেপির ১২ জন বিধায়ক রয়েছেন। লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) ও রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে)-র দু’জন করে, জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর এক জন এবং চার জন নির্দল বিধায়কও রয়েছেন।

তবে এনপিপি এই ঘটনাকে ‘মার্জার’ হিসেবে মেনে নেয়নি। দলের জাতীয় সহ-সভাপতি ভেভোয়ি ডি ভাদেও একে ‘পোচিং’ বা বিধায়ক ভাঙানোর ঘটনা বলে দাবি করেছেন। দলটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।

‘আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব’

নাগাল্যান্ডে বিধায়কশূন্য হয়ে গেলেও সাংমা জানিয়েছেন, সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ শুরু করবে এনপিপি।

তাঁর কথায়, “এনপিপি এগিয়ে যাবে। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াব এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব—শুধু নাগাল্যান্ডে নয়, গোটা উত্তর-পূর্বে।”

এর জন্য নাগাল্যান্ডে দলের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক নতুন করে গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বের অন্য রাজ্যগুলিতেও দলের উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বলেছেন এনপিপি সভাপতি।

এনডিএ-তে সম্পর্ক রাজ্যভেদে

নাগাল্যান্ডের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও এনপিপি জাতীয় স্তরে এনডিএর অংশ রয়েছে বলে ফের স্পষ্ট করেছেন সাংমা। তবে উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে এনডিএর সঙ্গে দলের সম্পর্কের ধরন এক নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সাংমার বক্তব্য অনুযায়ী, মেঘালয় ও মণিপুরে এনপিপির মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। অন্য দিকে নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশে এনডিএ-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করলেও সেখানে এনপিপির কোনও মন্ত্রী নেই।

তাঁর কথায়, “মন্ত্রী পদ না থাকলেও, আমরা যে চারটি রাজ্যে উপস্থিত, সবকটিতেই এনপিপি এনডিএ সরকারকে সমর্থন করেছে।”

নাগাল্যান্ডে বিধায়ক হারানোর ধাক্কা সামলে দল কত দ্রুত সংগঠন পুনর্গঠন করতে পারে, এখন সেই দিকেই নজর থাকবে। পাশাপাশি পাঁচ বিধায়কের দলবদল নিয়ে এনপিপির সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *