কেআরসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৪ টি সংগঠনকে সংবর্ধনা
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
মাতৃ শক্তি জাগ্রত করার চেষ্টা করে গেছেন স্বামী বিবেকানন্দ। নিপীড়িত ভারতবর্ষে নারী জাতিকে জাগ্রত করার জন্য তিনি খুঁজেছিলেন একজন তেজস্বী নারী কে। সেই নারী হিসেবে তিনি খুঁজে পেয়েছিলাম ভগিনী নিবেদিতা কে। স্বামী বিবেকানন্দের ১৬১ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে শিলচর প্রেস ক্লাবে কে আর সি ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষনে এই মন্তব্য করেন শিলচর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী গনধিশানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, নারী জাতিকে জাগ্রত হতে হবে কিন্তু সঙ্গে পবিত্রতা ও মাতৃত্ব রাখতে হবে। নারীর মাতৃত্ব শক্তি না থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম বিকশিত হয় না। আর স্বামী বিবেকানন্দ এই চেষ্টাই করে গেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ চেয়েছিলেন যুবশক্তি জাগ্রত হোক তাই তারা রচনাবলিতে আমরা পাই যুব শক্তিকে জাগ্রত করার জন্য তিনি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে কেআরসি ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে চয়ন ভট্টাচার্য বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ সারা ভারতবর্ষকে এক সূত্রে বেঁধে রাখা যে ভারতীয়ত্ব সেই ভারতীয়ত্বের কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে ন। কেআরসি ফাউন্ডেশন স্বামী বিবেকানন্দের এই আদর্শকে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি শিলচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে বলেন ,শুধুমাত্র স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম দিবস পালন করলেই হবে না। স্বামী বিবেকানন্দ যে মানবতাবাদের কথা বলে গেছেন সেটা রক্ষা করতে হবে। তিনি যেভাবে হিন্দুত্বের উদারতাকে সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেটাকে মেনে চলতে হবে।
অনুষ্ঠানের অতিথি বিশিষ্ট সমাজকর্মী বিবেক পোদ্দার বলেন, বিবেকানন্দের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। বরাক উপত্যকার প্রেক্ষাপটকে বিবেকানন্দের আদর্শের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি বলেন আত্মশক্তি থাকলে উন্নতি করা সম্ভব। একটা সময় ব্যাঙ্গালোরে কিছুই ছিল না কিন্তু শুধুমাত্র আত্মনির্ভরতা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আজ কোথায় পৌঁছে গেছে এই জায়গা। এই শিলচরকেও ব্যাঙ্গালোর বানানোর সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইভাবে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শকে নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার কথা বলে বক্তব্য রাখেন আকসার উপদেষ্টা রূপম নন্দী পুরকায়স্থ।অনুষ্ঠানে কে আর সি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সমাজ সেবায় অবদানের জন্য শহরের ১৪ টি সংগঠনকে মানপত্র ও স্মারক দেওয়া হয়।
সংগঠন গুলি হল দৃষ্টি অ্যাসোসিয়েশন, সুবীর এন্ড ফ্রেন্ডস, বিহান, প্রয়াস ,জয় রাধা সেবা সমিতি, উদয়ের পথে, সংঘ চল মিলাপ, ইয়ং মাইন্ড অ্যাসোসিয়েশন, হিউমেন্স অফ শিলচর ,রবিনহুড আর্মি ,নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থা, হৃদয় সামাজিক সংস্থা,আর্য সংস্কৃতি বধিনী সমিতি ও লাইফ লাইন ফর এভার ফাউন্ডেশন।
এই সংগঠনগুলির হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্বামী গণধিনন্দ মহারাজ, শংকর দে ,বিবেক পদ্মার সৌমিত্র দত্ত রায়, হারান দে ,রসরাজ দাস পিনাকপানী নাথ, রূপম নন্দী পুরকায়স্থ প্রমূখ। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী বাপি রায়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিপ্লব দেবনাথ ও পল্লবীতা শর্মা। অনুষ্ঠান সুস্থভাবে পরিচালনায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন কার্তিক ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ও নেতাজীর ছাত্র যুব সংস্থার জয়দীপ চক্রবর্তী । শহরের সংগঠনগুলো যেভাবে মানুষের পাশে এগিয়ে আসছে সেই কাজে তাদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয় কেআরসি ফাউন্ডেশন।

e-mail: infocom.krc@gmail.com
Know More | Apply Here


