নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

2 - মিনিট |

রাজ্যের আর্জি খারিজ

KRC Times Desk

কলকাতা, ২২জুনঃ-  সোমবার রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে একথা জানিয়ে দিল হাইকোর্ট। এদিন কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে সাফ বলেছে, সরকার বলেছে রাজ্যের কাছে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি, অথচ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে ৫৪১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। আদালত ১৮ জুনের নির্দেশ বহাল রেখে রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। 

গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি কমিটি তৈরি করবে। এই কমিটির সদস্যরা হিংসা-কবলিত এলাকায় গিয়ে সমস্ত ঘটনা খতিয়ে দেখে আদালতকে রিপোর্ট জমা দেবে। আদালত সেই নির্দেশে বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে কমিটি তৈরি করবে সেখানে রাজ্যের লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির একজন সদস্য এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের একজন সদস্য থাকবেন। এই কমিটির কাজে সর্বতো সহায়তা দেবে রাজ্য প্রশাসন।

হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরই রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি করে আদালতকে জানায়, এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করতে হবে। রাজ্যের তরফে `আবেদন জানিয়ে বলা হয়, এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে তার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হোক। সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের এই আবেদন খারিজ করে বলেছে, রাজ্য সরকারের ওপর আস্থা নেই বলেই আক্রান্ত মানুষ জাতীয় মানবাধিকারের কাছে তাঁদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করাচ্ছেন। বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল মন্তব্য করেন বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করলে রাজ্যের আপত্তি কোথায়? এব্যাপারে রাজ্যের কেন আপত্তি তা লিখিতভাবে আদালতকে জানতে হবে।

আদালত রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পরই সরকারের তরফে একটি তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানানো হয়েছে। সরকার এই প্রথম আদালতকে জানিয়েছে এখনও কতজন ঘরে ফিরতে পারেননি। গত ২ মে রাজ্য বিধানসভার ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে হিংসা শুরু করে শাসক দলের সমর্থকরা। কলকাতা, হাওড়া থেকে শুরু করে ক্যানিং, দেগঙ্গা, ভাঙড়ে সিপিআই(এম), আইএসএফ সহ সংযুক্ত মোর্চার কর্মী-সমর্থকদের ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। ৩ মে দেগঙ্গায় খুন হন মাফরোজা বিবির স্বামী। ভাঙড়ে একের পর এক বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্যানিংজুড়ে এখন বহু মানুষ নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন মাফরোজা বিবি এবং শান্তি গণতন্ত্র সংহতি মঞ্চ। আদালত এই মামলা শুনানির জন্য পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে। বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ছাড়া এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি সৌমেন সেন, সুব্রত তালুকদার, ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখার্জি ও হরিশ ট্যান্ডন। কলকাতা হাইকোর্ট প্রথমেই তার নির্দেশে বলেছিল আক্রান্ত মানুষের অভিযোগ রাজ্য প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে। সেই কারণেই রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে একটি ই মেল আইডি খোলার নির্দেশ দিয়েছিল।  আদালতের সেই নির্দেশ প্রথমে অমান্য করলেও পরে রাজ্য অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ইমেল আইডি খোলার ব্যবস্থা করে। মামলার আবেদনকারীদের তরফ থেকে ৪০০ ঘরছাড়া পরিবারের তালিকা রাজ্য প্রশাসন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। 

পরবর্তী সময়ে শুনানির পরে বৃহত্তর বেঞ্চ নির্দেশ দেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজ্য মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, এসটি এসসি কমিশন এব্যাপারে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে। গত শুক্রবার আদালত নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করে এই হিংসা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, আইনজীবী সামিম আহমেদ।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *