রাঙ্গিরখাল দ্রুত শেষ করার দাবি

3 - মিনিট |

ওয়াল তৈরির চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করল মার্চ ফর সায়েন্স

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : রাঙ্গিরখাল জবরদখল মুক্ত করে জল নিষ্কাশনে আদি গভীরতা পর্যন্ত ও পরিধি বজায় রেখে গার্ড ওয়াল তৈরির কাজ দ্রুত  সম্পন্ন করার দাবিতে আজ জেলাশাসকের নিকট স্মারকপত্র প্রদান করে মার্চ ফর সায়েন্স, শিলচর চাপ্টারের সদস্যরা। সংগঠনের দুই বর্ষীয়ান সদস্য হরিদাস দত্ত ও আশু পাল রাঙ্গিরখালের গার্ড ওয়াল তৈরির কাজের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আজ জেলাশাসককে স্মারকপত্র প্রদান করে ‘মার্চ ফর সায়েন্স’, শিলচর চাপ্টারের অন্যতম সদস্য নির্মল কুমার দাস, কমল চক্রবর্তী, হিল্লোল ভট্টাচার্য প্রমুখ বলেন যে শিলচর শহরকে কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক বন্যার ভয়াবহতা থেকে মুক্ত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বাঁধ, স্লুইস গেট ইত্যাদি তৈরির কাজে উপযুক্ত মান বজায় রেখে সময়মতো সম্পন্ন করার দাবিতে সময়ে সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

তারা বলেন শিলচর শহরের বৃষ্টির জল নিষ্কাশনে অতি গুরুত্বপূৰ্ণ রাঙ্গিরখালের গার্ড ওয়াল তৈরির কাজে সংগঠনের সদস্যদের চোখে যে সব ত্রুটি ধরা পড়েছে তা যথাযথভাবে সমাধানে জেলাশাসক সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকের কাছে স্মারকপত্রের প্রতিলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয় যে রাঙ্গিরখালের গার্ড ওয়াল তৈরি ও খালের পাড়ের সড়কের পরিধি বৃদ্ধির জন্য প্রথমে যে ৪২.০৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজে নির্দিষ্ট গভীরতায় মাটি খননে পার্শ্ববর্তী রাস্তায় ফাটল দেখা দেয় এবং গভীরতা বৃদ্ধিতে রাস্তা ধসে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে কাজ স্থগিত রেখে পাইলিং করে তার উপর ভিত্তি তৈরির প্রস্তাব জানিয়ে নতুন ডিজাইন ও আনুমানিক খরচের হিসেব চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে পাঠানো হয়।

নতুন প্রস্তাবের অর্থ যদিও এখনও সরকারি ভাবে মঞ্জুর হয়নি কিন্তু ‘মঞ্জুর হবে’ ধরে নিয়ে কাজ চলছে। পাইলিং এর কাজ যেহেতু প্রথমে ছিলনা, নতুন সংযোজিত হয়েছে, তাই স্বাভাবিক ভাবেই ৪২ কোটি টাকায় নতুন ডিজাইনে গার্ড ওয়ালের আগের দৈর্ঘ্য (২২০০ মিটার) পর্যন্ত করা সম্ভব হবে না।স্মারকপত্রে এও উল্লেখ করা হয় যে রাঙ্গিরখালের জিরো পয়েন্ট থেকে কাজ শুরু না করে কনকপুরের কনক সংঘ ক্লাবের পাশ থেকে (জিরো পয়েন্ট থেকে কম-বেশী ১৫০০ মিটার ডাউনস্ট্রিমে) কেন শুরু হল এবং আগামীদিনে ঐ অংশে গার্ড ওয়াল নির্মাণ হবে কি না, এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায় রয়েছে।

কনক সংঘ পয়েন্ট থেকে নীচের দিকে কোন পয়েন্ট পর্যন্ত কাজ করা হবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। শুধু বলা হচ্ছে, “তপোবন নগরের সানলিট হাসপাতালের পাসের ব্রিজ পর্যন্ত কাজ হবে।” দুই দিকের গার্ড ওয়ালের মাঝখানে ৭ মিটার দিয়ে জল নিষ্কাশনের পরিমাপ ধরে কাজ চলছে। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে ৭ মিটার নির্দিষ্ট হল, অথবা রাঙ্গিরখালের জল এই ৭ মিটার চওড়ায় দ্রুত বেরিয়ে যাবে কিনা, কোন জল সমীক্ষার ভিত্তিতে এটা তৈরি হল? প্রতিনিধিরা বলেন গার্ড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুধু একটি সরকারি বিভাগের সক্রিয়তায় সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কারণ খালের পাড়ের জবরদখলকৃত খাস জমি শুধু দাগ দিয়ে দেখিয়ে গেলেই হবে না।

Register your business, organisation, and services in ‘InfoCom Silchar Diary’
e-mail: infocom.krc@gmail.com
Know More | Apply Here

অতীতেও পাড়ের জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিয়ে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে চলা কাজে এধরনের বাধা এলে পরিস্থিতি সামাল দেবে কে? এছাড়াও বহু স্থানে মাটির নীচে পানীয় জলের পাইপ লাইন, পাসে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন, বি এস এন এল-এর ক্যাবল লাইন ইত্যাদি রয়েছে। এসব বিভাগ যথাযথ ভাবে কাজে সহায়তা করছে না। বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুতের খুঁটি, তার ইত্যাদি সরাতে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা লাগবে বলে জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য খরচের টাকা অগ্রিম এপিডিসিএল কৰ্তৃপক্ষকে জমা দিতে বলেছে। বি এস এন এল-ও সম্ভাব্য খরচের টাকা জমা দিলে তাদের লাইন সরিয়ে দেবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু সেগুলো কবে হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।


প্রতিনিধিরা বলেন বহু বাড়ির পায়খানার পাইপ সরাসরি রাঙ্গিরখালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এইসব জায়গায় শ্রমিকরা কাজ করতে পারছে না। কাজ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। গত মাস দুয়েক সময়ের মধ্যেই তিন বার শ্রমিক কাজ ছেড়ে চলে গেছে। নতুন শ্রমিক খুঁজে আনতে হচ্ছে ঠিকাদারকে। ফলে সময় নষ্ট হচ্ছে। পুরসভাকে কয়েকবার চিঠি দিয়েও নাকি লাভ হয়নি। পুরসভার পক্ষ থেকে এসব চিঠির জবাবও দেওয়া হয়নি।

এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এই কাজে সরকারি বিভাগগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নেই। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এই কাজের ড্রইং এ তিনটি পৃথক উচ্চতার যথাক্রমে ৪ মিটার, সাড়ে ৪ মিটার এবং সওয়া ৫ মিটার উচ্চতার গার্ড ওয়ালের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কোন জায়গা থেকে কোন জায়গা পর্যন্ত কোন উচ্চতার গার্ড ওয়াল তৈরি হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। এছাড়া রাঙ্গিরখালের এলাইনমেন্টের যে ড্রইং রয়েছে তার রেফারেন্স পয়েন্ট গুলোও সঠিক নয় বলে মনে করে সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে শিলচর শহরের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাঙ্গিরখালের যে কাজ শুরু হয়েছে তা  সঠিক ভাবে যাতে সম্পন্ন হয় তার জন্য উল্লেখিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং জনগণের জ্ঞাতাৰ্থে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্মারকপত্রের প্রতিলিপি ডি ডি সি, পৌরসভা ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ও পুলিশ সুপারকে দেওয়া হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *