শিলচর পুরভোটের ফল নিয়ে হিমন্তের কটাক্ষ, ‘ব্যালটেও কংগ্রেস হারছে’

2 - মিনিট |

বিজেপি-এজিপি জোটের ৩৪ আসনে জয়; কংগ্রেসের আসন মাত্র ২—গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানা বিরোধী দলকে

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

গুয়াহাটি: শিলচর পুরনিগমের প্রথম নির্বাচনে বিজেপি-এজিপি জোটের বড় জয়ের পর কংগ্রেসকে নিশানা করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর কটাক্ষ, ইভিএম নয়, ব্যালট পেপারে ভোট হলেও কংগ্রেসের পরাজয় ঠেকানো যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হিমন্ত বলেন, “ব্যালট পেপারেও কংগ্রেস হারে। বরং ব্যালট পেপারে কংগ্রেস আরও বড় ব্যবধানে হারছে।”

৩ অক্টোবর ব্যালট পেপারে শিলচর পুরনিগমের ভোট হয়। মঙ্গলবার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি একাই ৩২টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদ বা এজিপি পেয়েছে আরও দু’টি আসন। ফলে বিজেপি-এজিপি জোটের দখলে মোট ৩৪টি ওয়ার্ড।

অন্য দিকে, কংগ্রেস জয় পেয়েছে মাত্র দু’টি ওয়ার্ডে। ছয়টি ওয়ার্ডে জয় এসেছে নির্দল প্রার্থীদের। ৪২ সদস্যের পুরনিগমে বোর্ড গঠনের জন্য প্রয়োজন ২১টি আসন। ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার তুলনায় অনেকটাই বেশি আসন পেয়েছে বিজেপি-এজিপি জোট।

ইভিএম নয়, ব্যালটে ভোট

শিলচর পুরনিগমের এই নির্বাচন একটি দিক থেকে আলাদা। বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হয়, সেখানে ৩ অক্টোবরের পুরভোটে ভোট নেওয়া হয়েছে ব্যালট পেপারে।

এই ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনেই কংগ্রেসের নির্বাচনী পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ব্যালট পেপারে ভোট হলেও কংগ্রেসের ফলাফলে কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি।

তবে বিজেপির জয়ের মধ্যেও দুটি ওয়ার্ডের ফল নিয়ে পুনর্গণনার আবেদন করা হয়েছে। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন নির্দল প্রার্থী এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে ওই দুই ওয়ার্ডে পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রথম পুরনিগম বোর্ড বিজেপির হাতে

২০২২ সালে শিলচর পুরসভাকে পুরনিগমে উন্নীত করার পর এটাই ছিল প্রথম পুরনিগম নির্বাচন। ফলাফলে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় শিলচর পুরনিগমের প্রথম নির্বাচিত বোর্ড পরিচালনার দায়িত্ব বিজেপি-এজিপি জোটের হাতেই যেতে চলেছে।

অসম বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়াও মঙ্গলবার ফল প্রকাশের সময় দাবি করেন, ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে এনডিএ ৩৪টি আসনে জয় পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ফলাফল শিলচরে বিজেপির প্রতি ভোটারদের সমর্থন এবং রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

কংগ্রেসের প্রভাব কমে এসেছে বলেও দাবি করেন শইকিয়া। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস যে অভিযোগ তুলেছিল, তা নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত নিজেদের অভিযোগের ‘ফাঁদেই’ পড়েছে।

শইকিয়ার দাবি, শিলচরের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উন্নয়ন কর্মসূচির উপর আস্থা রেখেছেন।

তবে শিলচর পুরনিগমের প্রথম নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি-এজিপির বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি ছয়টি ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থীদের জয়ও স্থানীয় রাজনীতিতে ওয়ার্ডভিত্তিক সমীকরণের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *