তিনি বলেন, তাঁর কাজের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু ত্রিপুরার মানুষের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার বদলাবে না
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
আগরতলা:ত্রিপুরার টিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা আসন্ন গ্রাম কমিটি নির্বাচনের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে রাজ্য ছাড়ছেন না তিনি। ত্রিপুরাতেই থেকে মানুষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
শুক্রবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিয়ো বার্তায় প্রদ্যোত বলেন, গ্রাম কমিটি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আগামী মাসে টিপ্রা মথার প্লেনারি বৈঠক ডাকা হবে। ত্রিপুরা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, এরপর দলের কোনও সক্রিয় পদে থাকার প্রয়োজন তিনি হয়তো অনুভব করছেন না।
প্রদ্যোতের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক পদে থাকলে অনেক সময় দলের কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণে সক্রিয় রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে গেলে তিনি আরও স্বাধীনভাবে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারবেন।
তিনি বলেন, তাঁর কাজের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু ত্রিপুরার মানুষের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার বদলাবে না।
নিজের রাজনৈতিক যাত্রার প্রসঙ্গ তুলে প্রদ্যোত বলেন, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে তিনি রাজনীতিতে আসেননি। কংগ্রেসে থাকার সময় ত্রিপুরার জনজাতি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি তাঁকে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে প্রভাবিত করেছিল বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পদকে ঘিরে যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রদ্যোত। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই আদর্শের বদলে ক্ষমতার সমীকরণ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করছে।
টিপ্রা মথার অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
শিক্ষা, জনজাতি অধিকার, স্বাস্থ্য, রাস্তা ও বিদ্যুতের মতো বিষয়গুলিতে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
তাঁর এই বক্তব্য এসেছে ২৮ সেপ্টেম্বরের গ্রাম কমিটি নির্বাচনের আগে। ত্রিপুরায় ৫৮৭টি গ্রাম কমিটির ৪,৫৯৭টি আসনে ভোট হওয়ার কথা। তবে প্রদ্যোত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়ার কোনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। নির্বাচন ও পরবর্তী প্লেনারি বৈঠকের পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।


