সম্প্রতি সরকার রাজস্ব আদায় করতে বদ্ধপরিকর তাই বলে জনসাধারণ কে প্রতারণা করার কথা নয়
প্রকৃতি নিউজ কনসার্ন
শিলচর : রাজ্যের সর্বত্রই অত্যধিক হারে বিদ্যুত বিল আদায় করা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যেসব অঞ্চলে স্মার্ট মিটার সংযোগ করা হয়েছে সেখানে ও গ্রাহকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আর যেসব অঞ্চলে এখন ও স্মার্ট মিটার সংযোগ করা হয় নি সেখানে ও অত্যধিক হারে বিদ্যুত বিল আদায় করা হচ্ছে। এনিয়ে রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতোই বরাক উপত্যকার গ্রাহকদের মধ্যে ও প্রতিবাদ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সবার একই কথা অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিসেবা বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের নাভিশ্বাস চরমে উঠেছে,একটু বাতাস বয়ে গেলে আর বিদুৎতের দেখা পাওয়া যায় না,সারাই করতে বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের দুই তিন দিন সময় লেগে যায়। এরপর আবারও বাতাস বয়ে গেলে হয়তো বা খুঁটি ভেঙে যায় না হয় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই বন্ধ সময়ের ও যাবতীয় চার্জ দিতে হয় গ্রাহকদের।
গতকাল আসাম বিদুৎত বিতরণ বিভাগের কালাইন সাব ডিভিশনাল কার্যালয়ের সামনে বেশ কিছু গ্রাহক ভিড় জমান, তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন প্রতি মাসে অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুত বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ জানিয়ে ও লাভ হয়নি, কতৃপক্ষ দায়সারাভাবে উত্তর দেন।
উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে নিখিল দাস, অপূর্ব নাথ, চামেলী পাল,হামিদা বেগম, রকিবুল আলম ও বিনোদ বিহারী রায় বলেন একমাত্র কালাইন বাজার এলাকা বাদ দিলে বাকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটু বাতাস বয়ে গেলে বিদুৎত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রায় প্রতিদিনই এধরনের সমস্যায় পড়তে হয় এই এলাকার বিদুৎত গ্রাহকদের,মাস শেষে লম্বা লম্বা বিল তুলে দেওয়া হয়। বিদুৎত সরবরাহ বন্ধ থাকলেও মাসিক যাবতীয় চার্জ প্রদান করতে হয় আমাদের।
তারা আরো ও জানান যদি ও আমাদের বাড়িতে স্মার্ট সরকারের স্মার্ট মিটার সংযোগ করা হয় নি তথাপি সমান্তরাল ভাবে স্মার্ট মিটারের তালে বিদুৎত বিল আদায় করা হচ্ছে। আর সেটা শুরু হয়েছে গত মার্চ ২০২৩ ইং থেকে।তারা দেখান ফিক্সড চার্জ, মিটার রেন্ট, ইলেকট্রিসিটি ডিউটি এফ পি পি পি এ সারচার্জ মার্চ মাসে ছিলো মোট ১৬১.৭২ এপ্রিল মাসে ১৮৫ টাকা,মে মাসে তা দাঁড়ায় ১৯৫ টাকা।ইউনিট এর ক্ষেত্রে ও মনগড়া হিসাব ধরে লম্বা বিল তৈরি করা হয়েছে।
এইসব বিলে দেখা গেছে ফিক্সড চার্জ মিটার রেন্ট ইলেকট্রিসিটি ডিউটি এফ পি পি পি এ সারচার্জ এই সব খাতে প্রতি মাসে অদল বদল করে কোনটি তে কম কোনটি তে বেশি করে ধরে মনগড়াভাবে ভাবে বিল তৈরি হচ্ছে। এই ধরনের কারচুপি করে বিল তে আদায় করা হচ্ছে তা সাধারণ গ্রাহকদের নজরে সহজে ধরা পড়ার কথা নয়। সাধারণ গ্রাহকরা নিজ নিজ জীবিকা নির্বাহের জন্য সদা ব্যস্ত থাকেন।
সম্প্রতি সরকার রাজস্ব আদায় করতে বদ্ধপরিকর তাই বলে জনসাধারণ কে প্রতারণা করার কথা নয়,গত মার্চ, এপ্রিল,মে এই তিন মাসের বিল কে মিলিয়ে দেখলে বুঝা যাবে আসাম বিদুৎত বিতরণ বিভাগ কি ভাবে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। এদিকে জুন মাসের ও বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এখানে ও গড়মিল ধরা পড়েছে। এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি সামাজিক সংগঠন কে এগিয়ে আসা উচিত বলে গ্রাহক গণ অনুরোধ জানান।


