জুবিন গর্গের মৃত্যু মামলা: জামিনে মুক্ত অমৃতপ্রভা মহন্ত, চারদিন পর হাফলং জেল থেকে ছাড়া

2 - মিনিট |

গুয়াহাটি হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি, মূল মামলায় জামিন পাওয়া প্রথম অভিযুক্ত অমৃতপ্রভা; জুবিনের মৃত্যু ঘিরে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলছে

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

হাফলং:অসমিয়া গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যু মামলায় জামিন পেলেন অভিযুক্ত গায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্ত। মঙ্গলবার হাফলং সাব-জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। গত ৯ অক্টোবর গুয়াহাটি হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল। আদালতের নির্দেশের চার দিন পর জেল থেকে বেরোলেন অমৃতপ্রভা। জুবিনের মৃত্যু সংক্রান্ত মূল মামলায় এই প্রথম কোনও অভিযুক্ত জামিন পেলেন বলে জানা গিয়েছে।

বিচারপতি প্রাঞ্জল দাস অমৃতপ্রভার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। বিশেষ সরকারি আইনজীবী জিয়াউল কামার সাংবাদিকদের জানান, ৫০ হাজার টাকার বন্ড এবং একই অঙ্কের দু’টি জামিনদারের শর্তে জামিন পেয়েছেন তিনি। কয়েক দিন ধরে মামলায় সওয়াল-জবাব চলার পর শুক্রবার আদালত রায় ঘোষণা করে। বুধবার শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল।

জুবিনের মৃত্যু মামলায় ধৃত অমৃতপ্রভাকে হাফলং সাব-জেলে রাখা হয়েছিল। একই জেলে বন্দি ছিলেন জুবিনের প্রাক্তন ব্যান্ডসঙ্গী শেখরজ্যোতি গোস্বামীও। মামলার অন্য অভিযুক্তদের রাখা হয়েছে তামুলপুর জেলে।

এর আগে জুবিনের দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বরা ও পরেশ বৈশ্য আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি পৃথক মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। তবে সেটি জুবিনের মৃত্যুর মূল মামলা থেকে আলাদা।

২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে মৃত্যু হয় ৫২ বছর বয়সি জুবিন গর্গের। উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অসমজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হন অনুরাগীরা।

এর পর অসম সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে। তদন্তের অংশ হিসেবে জুবিনের সিঙ্গাপুর সফরের সঙ্গীদের কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উৎসবের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ব্যান্ডসঙ্গী শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহন্ত।

তদন্তের পর সিট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। অমৃতপ্রভা মহন্ত, শ্যামকানু মহন্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা এবং শেখরজ্যোতি গোস্বামীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। জুবিনের তুতো ভাই সন্দীপন গর্গের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার অভিযোগ আনা হয়, যা খুনের পর্যায়ে পড়ে না। অন্য দিকে, দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।

অমৃতপ্রভার জামিনে মুক্তি পাওয়ার অর্থ অবশ্য অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ-সহ মামলার সমস্ত অভিযোগের বিচার এখনও বাকি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। জুবিন গর্গের মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি এবং তাতে অভিযুক্তদের ভূমিকা নির্ধারণের আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *