গুয়াহাটির বি বৰুৱা কলেজের ২০ বছরের পড়ুয়ার মৃত্যুরহস্য ঘিরে তৎপরতা, পরিবারের বয়ান নথিভুক্ত করল অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ
গুয়াহাটি:অন্ধ্রপ্রদেশে রেললাইনের পাশ থেকে অসমের পড়ুয়া হিমাশ্রী বড়োর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাল তাঁর পরিবার। সোমবার, ১২ অক্টোবর, সরকারি রেল পুলিশ (জিআরপি) থানায় অভিযোগ জমা পড়ে। এদিকে, মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের একটি দল তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের অভিযোগে গোবিন্দ রেড্ডি, আজিনুর হুসেন, সুমিত্রা দেওরি, জ্যোতি চৌধুরী এবং অবিনাশের নাম রয়েছে। হিমাশ্রীর মৃত্যুর সঙ্গে এই পাঁচ জনের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পিছনে কী পরিস্থিতি ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের তদন্তকারী দল রেল পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। থানায় ডেকে পাঠানোর পর পরিবারের সদস্যরাও তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে মঙ্গলবার হিমাশ্রীর বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের দলের। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আরও তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের।
গুয়াহাটির বি বৰুৱা কলেজের ছাত্রী হিমাশ্রী অসমের একটি নৃত্যদলের সঙ্গে বিশাখাপত্তনমে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ৬ অক্টোবর ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেসে গুয়াহাটির উদ্দেশে যাত্রা করার সময় তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরে অন্ধ্রপ্রদেশে রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
তাঁর নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে দেহ উদ্ধারের মধ্যবর্তী সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ট্রেনে তাঁর যাত্রাপথ, শেষবার কোথায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল এবং কী ভাবে তিনি রেললাইনের পাশে পৌঁছলেন—ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত হিমাশ্রীর মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি পুলিশ। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে তাঁর পরিবার ও অসমের মানুষ।


