ব্যাটম্যানের মুখোশ, অফলাইন মানচিত্র! দিল্লিতে সিইসি-বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের নজরদারি এড়াতে অভিনব কৌশল তরুণদের

2 - মিনিট |

যন্তর মন্তরে কড়া নিরাপত্তা, অন্যত্র ঝটিকা বিক্ষোভ। আটক বিক্ষোভকারীদের খোঁজে স্বেচ্ছাসেবকদের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক, পুলিশের চোখ এড়াতে মুখে মেকআপও

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লিঃব্যাটম্যানের মুখোশ, স্মার্টফোনে অফলাইন মানচিত্র, পুলিশের গাড়ির গতিবিধির উপর নজরদারি—দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে এ বার প্রশাসনের সঙ্গে তরুণ আন্দোলনকারীদের যেন এক অন্য রকমের লড়াই। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে যন্তর মন্তরে জমায়েত আটকানোর চেষ্টা করেছে পুলিশ। পাল্টা কৌশলে অন্যত্র ছোট ছোট ঝটিকা বিক্ষোভে নেমেছেন আন্দোলনকারীরা।

সপ্তাহান্তে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে হাজার হাজার মানুষকে আটক করার খবর সামনে এসেছে। তাঁদের অনেককেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভ থামেনি। বরং পুলিশের নজরদারি এড়াতে এবং আটক সঙ্গীদের খোঁজ পেতে প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনাকে হাতিয়ার করছেন তরুণেরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আটকদের খোঁজে স্বেচ্ছাসেবকদের নেটওয়ার্ক

বিক্ষোভ চলাকালীন আটক ব্যক্তিদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তুলেছেন ৩৬ বছরের কনটেন্ট নির্মাতা মেঘনাদ এস। তাঁর প্রায় ১৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক স্মার্টফোনের সাহায্যে পুলিশের গাড়ির গতিবিধির উপর নজর রাখেন। আটক ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তা একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে নথিভুক্ত করা হয়। সেখান থেকে তাঁদের কাছে পৌঁছতে স্বেচ্ছাসেবক চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

সংবাদ সংস্থা এএফপিকে মেঘনাদ জানান, হোয়াটসঅ্যাপ গোষ্ঠীতে স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন, গাড়িতে খাবার ও জল রয়েছে কি না, পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে কি না। প্রয়োজনে চিকিৎসকেরও ব্যবস্থা করা হয়, যাতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে পথে সাহায্য পাওয়া যায়।

চেহারা গুলিয়ে বিপাকে পুলিশ

পুলিশের নজর এড়ানোর ঘটনাও কম নয়। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার সঙ্গে চেহারার মিল থাকায় অন্য এক তরুণীকে আটক করে পুলিশ। সেই সুযোগে ২৯ বছরের নেহা নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে মধ্য দিল্লির দিকে এগিয়ে যান। পরে অবশ্য তাঁকেও আটক করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজা করেন নেহা। নিজের মতো দেখতে ওই তরুণীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে তিনি জানান, এই সাদৃশ্য নিছক কাকতালীয়, কোনও পরিকল্পনা নয়।

রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ধরতে গিয়ে পুলিশকর্মীদের হিমশিম খাওয়ার দৃশ্যও সামনে এসেছে। কোথাও আটক করতে নিয়ে যাওয়ার সময় একে অপরকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বাসে তোলার পর কেউ কেউ চালকের আসনের দিক দিয়ে, আবার কেউ পিছনের জানলা গলে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ব্যাটম্যানের মুখোশ, মেকআপে নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা

পরিচয় গোপন রাখতে কয়েক জন বিক্ষোভকারী ব্যাটম্যানের মুখোশ পরেছিলেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিনেত্রী রিচা চাড্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখে মেকআপ লাগানোর একটি ভিডিও পোস্ট করে নজরদারি ক্যামেরা ও মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এড়ানোর পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, সম্মতি ছাড়াই যখন বিক্ষোভকারীদের ছবি তোলা হচ্ছে, তখন পরিচয় গোপন রাখার বিকল্প কৌশল নিয়ে ভাবা দরকার।

দিল্লির এই বিক্ষোভে এক দিকে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অন্য দিকে তরুণদের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা ও ডিজিটাল যোগাযোগ—দু’য়ের সংঘাত ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। যন্তর মন্তরে জমায়েত আটকে দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও অন্যত্র বিক্ষোভের কৌশল দেখিয়ে দিচ্ছে, রাজধানীতে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের কাছে সহজ হচ্ছে না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *