“টাটাকে অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ কোনও ব্যবসায়ী নেতা একটি কথাও বলার সাহস দেখাচ্ছেন না। আর কত দিন নীরব থাকবেন? যত দিন না ওরা আপনাদেরও নিয়ন্ত্রণ করে?”
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি:টাটা গোষ্ঠীকে ‘অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, দেশের ব্যবসায়ী মহলের নেতারা এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। টাটা সন্সের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে গোষ্ঠীর অন্দরে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা।
এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে রাহুল লেখেন, “টাটাকে অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ কোনও ব্যবসায়ী নেতা একটি কথাও বলার সাহস দেখাচ্ছেন না। আর কত দিন নীরব থাকবেন? যত দিন না ওরা আপনাদেরও নিয়ন্ত্রণ করে?”
এর পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “ভারতীয় ব্যবসা মোদী ও শাহের ব্যক্তিগত খেলনা নয়। আপনাদের সাহসের অভাব রয়েছে, আমাদের নেই। এই অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করব আমরা।”
টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর টাটা সন্সের বোর্ডের বৈঠকে তাঁর কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। বৈঠকে প্রক্রিয়াগত অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
গত ২৬ অক্টোবর টাটা সন্সের কোম্পানি সচিব সুপ্রকাশ মুখোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে নোয়েল দাবি করেন, পরিচালকদের কাছে পাঠানো বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সংস্থার আর্টিকলস অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি, আর্টিকল ১০৪বি অনুযায়ী নিযুক্ত পরিচালকদের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নোয়েলের দাবি, আপত্তি ওঠার পরেও ওই প্রস্তাবকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বৈঠকের অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ডিং, চূড়ান্ত কার্যবিবরণী এবং প্রস্তাবের প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন
চিঠিতে নোয়েল পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, টাটা সন্সের আর্টিকলস অব অ্যাসোসিয়েশনের প্রাসঙ্গিক বিধি মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বৈঠকের কার্যবিবরণী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রস্তাবের প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রকাশ্যে এসেছে এবং তা কোম্পানিজ রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি আপত্তি তুলেছেন।
বৈঠকে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণের জন্য অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ডিংকে নিরপেক্ষ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নোয়েল। আগামী সাত দিনের মধ্যে বৈঠকের রেকর্ডিং, চূড়ান্ত বা সংশোধিত কার্যবিবরণী, ভোটদানের বিবরণ, আনুষ্ঠানিক নোটিস, আলোচ্যসূচির বিভিন্ন সংস্করণ এবং কোম্পানিজ রেজিস্ট্রার ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে জমা দেওয়া নথি চেয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে, পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে এক জন পরিচালক এবং স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্টের আপত্তির বিষয়টি কোম্পানিজ রেজিস্ট্রারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর দাবি জানিয়েছেন নোয়েল। নথিপত্র ও বৈঠকের কার্যবিবরণী নিয়ে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ না করারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
টাটা গোষ্ঠীর এই অভ্যন্তরীণ বিবাদকে কেন্দ্র করেই রাহুল গান্ধী দেশের শিল্পপতিদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে নোয়েলের তোলা অভিযোগ এবং পুনর্নিয়োগের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।


