বরাক উপত্যকায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার দাবি

2 - মিনিট |

কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ কামনা নাগরিক মঞ্চের

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শ্রীভুমি : বরাক উপত্যকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্যাসভিত্তিক শিল্প পরিকাঠামো, বিশেষত একটি গ্যাস ক্র্যাকার কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং ডোনার মন্ত্রকের কাছে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি পেশ করেছে বরাক উপত্যকার নাগরিক মঞ্চ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বরাক উপত্যকা ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যা আসাম–আরাকান ফল্ড বেল্টের অন্তর্গত। এই বেল্টটি উপরের আসাম থেকে শুরু করে কাছাড় ও করিমগঞ্জ হয়ে ত্রিপুরা এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষ করে আদমটিলা, পাথারিয়া এবং বাঁসকান্দি গ্যাস ক্ষেত্রগুলির অবস্থান এই অঞ্চলের শক্তিশালী হাইড্রোকার্বন সম্ভাবনাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্যাসভিত্তিক কাঠামো চিহ্নিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ২৬টি অনুসন্ধানমূলক কূপ এবং ৯টি উন্নয়নমূলক কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী গ্যাসের প্রাপ্যতার সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করে।

তবে এত বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও বরাক উপত্যকা আজও শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। পাচগ্রামের কাগজ কল এবং রাতাবাড়ির চিনি কলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং ব্যাপক হারে বেকারত্ব ও বহির্গমন দেখা দিয়েছে।

নাগরিক মঞ্চের মতে, বর্তমানে বরাক উপত্যকায় শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা হচ্ছে, কিন্তু তার মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প উন্নয়ন ঘটছে না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য অবিলম্বে গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপন অপরিহার্য।

বিশ্বব্যাপী বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশীয় গ্যাস সম্পদের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

স্মারকলিপিতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, পর্যায়ক্রমে এই শিল্প উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা এবং সিটি গ্যাস বিতরণ প্রকল্প গড়ে তোলা যেতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প এবং শেষ পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্যাস ক্র্যাকার কমপ্লেক্স স্থাপন করা যেতে পারে।

নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরাক উপত্যকা উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং অ্যাক্ট ইস্ট নীতির অধীনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।এই উপত্যকাকে অচিরেই ভারতের দক্ষিন এশিয়ার শুধু এক ‘দ্বার’ নয়, বরঞ্চ ‘সিংহ দ্বার’ হিসাবে বিবেচিত হতে চলেছে।
নাগরিক মঞ্চের আহ্বান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দ্রুত এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক এবং বরাক উপত্যকার দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই শিল্প উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করুক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *