রাত ১১টা নাগাদ ৩৩ কিলোমিটার চিহ্নের কাছে বাসটিতে আগুন লাগে। বাসটি দিল্লির কাশ্মীরি গেট থেকে মহোবার দিকে যাচ্ছিল। আগুন দ্রুত গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজন জানলা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়ডা:যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাবাহী বাসে ভয়াবহ আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত ৯ যাত্রীর। বুধবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার জেওয়ারের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১১টা নাগাদ ৩৩ কিলোমিটার চিহ্নের কাছে বাসটিতে আগুন লাগে। বাসটি দিল্লির কাশ্মীরি গেট থেকে মহোবার দিকে যাচ্ছিল। আগুন দ্রুত গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজন জানলা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
দমকলের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর পাশাপাশি বাসের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। দমকল আধিকারিক প্রদীপ কুমার জানিয়েছেন, ধোঁয়ায় ভরে থাকা বাসের ভিতর থেকে ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে পুড়ে বা ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।
দমকলের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বাসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনও স্ফুলিঙ্গ বা বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে ইঞ্জিনের লুব্রিক্যান্ট তেলে আগুন ধরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
মৃত ৯ যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত ধারায় মামলা করেছে জেওয়ার থানার পুলিশ।
দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোকপ্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।


