বরাকের উন্নয়নে কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর: আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শিলচরের ইন্দিরা ভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠকে অল ইন্ডিয়া মহিল কংগ্রেসের সভানেত্রী ও তারকা প্রচারক আলকা লাম্বা বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক দশকে উন্নয়নের অভাব এবং জনঅসন্তোষ রাজ্যে বাড়ছে।
লাম্বা বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বরাক উপত্যকার মানুষের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে এবং “বিজেপির বিশ্বাসঘাতকতা ও ভুয়া প্রতিশ্রুতি” উন্মোচিত করবে। তিনি দাবি করেন, সমাজে বিভাজন সৃষ্টিকারী রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে।
বিজেপির বিরুদ্ধে “ঘৃণার রাজনীতি” চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘মিয়া’ বলে কটূক্তি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর বাস্তবায়নে ব্যর্থতা সাধারণ মানুষকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। অভিবাসন প্রসঙ্গে তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ইউপিএ আমলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের সংখ্যা বিজেপির তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
বরাক উপত্যকার বেকারত্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লাম্বা বলেন, নতুন শিল্প গড়ে না ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’ নিয়োগে স্থানীয়দের উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্যের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পরও যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বেথুকান্দি স্লুইস গেটসহ বিভিন্ন বাঁধ মজবুত না হওয়ায় পরবর্তী বছরগুলোতেও সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। শিলচরের নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেও সাধারণ বৃষ্টিপাত বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সীমান্ত সমস্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার দুরবস্থা নিয়েও তিনি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন। মিজোরাম ও মণিপুরের সঙ্গে সংঘাতের ফলে বাণিজ্য ও যাতায়াতে প্রভাব পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিলচরের ফ্লাইওভার ও তারাপুর করিডরের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, চা শিল্পে সংকট, যুবকদের বেকারত্ব এবং করিমগঞ্জের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক বাস্তব উন্নয়নের অভাবকে ঢাকতে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও পরিস্থিতিকে “গভীর সংকটপূর্ণ” বলে বর্ণনা করে লাম্বা বলেন, শিলচর মেডিক্যাল কলেজে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও কর্মীর অভাব রয়েছে, এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক সংকট প্রকট।
এছাড়া, কাছাড় পেপার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, তিনি আর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফিরবেন না। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধেও তিনি উন্নয়নমূলক ইস্যু এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
লাম্বা আরও বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বন্ধ হয়ে থাকা কাছাড় পেপার মিল পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং কর্মসংস্থান ও সার্বিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিলচর ডিসিসি সভাপতি সজল আচার্য, এপিসিসি মুখপাত্র সৌম্য কান্তি পুরকায়স্থ, সঞ্চিতা আচার্য, কৌশিক ভট্টাচার্য, বন্দিতা ত্রিবেদী রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



