BARAK|অক্সিজেন কমে গেলে লোকে অসুস্থ হবেন, তাই ১০০০ গাছ লাগানোর কাজে লেগেছে ৯-বছরের শিশু

2 - মিনিট |

ক্ষুদে শিশুর এই উদ্যম অনেককে পথ দেখাবে

তাপস রঞ্জন নাথ

সে শুনেছে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের অক্সিজেন দিতে হয়, আর অক্সিজেন আসে গাছ থেকে। তাই এলাকায় এক হাজার গাছ লাগানোর সংকল্প নিয়েছে মাত্র ৯-বছরের পরিবেশ সচেতন একটি শিশু। ধলাই বিধানসভা সমষ্টির অধীনে ছোট জালেঙ্গা দ্বিতীয় খন্ডের বাসিন্দা অভিনব দেব তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। শুক্রবার ছিল তাঁর জন্মদিন, এই দিনকে সামনে রেখে তার স্বপ্নপূরণের কাজে লেগে পরেছে অভিনব। অবশ্যই পাশে রয়েছেন মা বুলটি দেব এবং বাবা অজয় দেব। আগে থেকেই তারা গাছ লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা দেখেছেন এবং সেখানে গর্ত খুঁড়ে সার ইত্যাদি দিয়ে রেখেছেন। শুক্রবার জন্মদিন উপলক্ষে কুড়িটি গাছ লাগিয়েছে ৯ বছরের অভিনব।

শুক্রবার বিকেলে ছোট জালেঙ্গা এলাকায় গাছ লাগানোর কাজ শুরু করেছে অভিনব। ছোট জালেঙ্গা দ্বিতীয় খন্ড থেকে নাগাথল রোড পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সরকারি সড়কের পাশে গাছ লাগাবে অভিনব। এই কাজে তার সঙ্গে রয়েছেন বাবা অজয় দেব। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগানো এবং গাছ সংরক্ষণের ব্যাপারে সচেতন। আমাদের বাড়িতে অনেক মূল্যবান গাছ তার উদ্যোগেই লাগানো হয়েছে এবং সেগুলো সংরক্ষণের দিকে সবসময় নজর রাখে অভিনব। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করলেও তার জিজ্ঞাসার বেশিরভাগ অংশ জুড়েই থাকে পরিবেশের বিষয়। গাছ কেন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন? গাছপালা আমাদের কি দেয়? কেন লোকে অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন? অক্সিজেন যখন কম, তাহলে গাছ কেন কাটা হচ্ছে? ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন তার। মাঝে মাঝে আমরাও তার প্রশ্নে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, অথচ তার সচেতনতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবার সে সংকল্প নিয়েছে এলাকায় গাছ লাগাবে এবং আমার কাছে দাবী সেগুলো সংরক্ষণে তাকে সাহায্য করতে হবে। ছেলের জন্মদিনে আমরা অন্য কোনও উপহার দিইনি, শুধুমাত্র তাকে গাছ লাগাতে সাহায্য করেছি এবং সেগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি।”

অভিনব দেবের মা বুল্টি দেব এলাকার আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্য এবং সমাজসেবী। তিনি ছেলেকে জন্মদিনে অনেক কিছু রান্না করে খাওয়াবেন ভেবেছিলেন, কিন্তু ছোট্ট ছেলেটি এব্যাপারেও পরিবেশ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। বুল্টি দেব জানিয়েছেন, তার ছেলে মাছ-মাংস ইত্যাদি পছন্দ করে না, তার প্রিয় খাবার হচ্ছে ফল। তিনি বলেন, “তার প্রিয় খাদ্য হচ্ছে ফল এবং সব থেকে প্রিয় হচ্ছে আম এবং কলা। মাংস খেতে চায় না কারণ এতে কোনও প্রাণীকে মারা হয় বলে শুনেছে। পরিবেশ নিয়ে তার উৎসাহ ছোটবেলা থেকেই রয়েছে। এবার এক অদ্ভুত বায়না ধরেছে, এলাকায় গাছ লাগিয়ে অক্সিজেন বাড়াবে। অবশ্যই এটা অত্যন্ত সুন্দর স্বপ্ন এবং তার সরল স্বপ্নকে বাস্তব করতে আমরা পাশে রয়েছি।”

কাঁঠাল রোডের দিল্লি পাবলিক স্কুলের ছাত্র অভিনব বাড়িতেই অনলাইনে ক্লাসে যোগ দেয়। সেখানেও শিক্ষকদের সঙ্গে তার আলোচনায় আগ্রহ সবসময়ই পরিবেশ, অক্সিজেন ইত্যাদি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *