‘বয়স্ক শিক্ষা’ ও ‘মিড ডে মিল’-জনক প্রতাপচন্দ্র চন্দ্রের জন্মশতবর্ষ

< 1 - মিনিট |

ইতিহাস ও আইন, দু’টিতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের অধ্যাপনা করেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটের সদস্য ছিলেন। বিধায়ক ছিলেন ১৯৬২ থেকে ‘৬৯ পর্যন্ত। রাজ্যে ছিলেন অর্থ ও বিচার— দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী। কেন্দ্রে কংগ্রেসের মন্ত্রী ছিলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

১৯২০-র দশকের শেষ দিক। বৌবাজারে নির্মলচন্দ্র চন্দ্রের বাড়িতে অতিথি এসেছেন। অবিভক্ত বাংলার শীর্ষ পাঁচ নেতার অন্যতম ছিলেন আইনজীবী নির্মলচন্দ্র। বাড়ির এক সপ্রতিভ শিশু তাঁর অনুরোধে গাইল রবীন্দ্রসঙ্গীত। বিস্মিত অতিথি বললেন, ‘‘এ একদিন সমাজের মুখ উজ্জ্বল করবে।’’ অতিথি জওহরলাল নেহরু, আর শিশুটি নির্মলচন্দ্রের পুত্র প্রতাপচন্দ্র। ১ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হবে।

বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই যশস্বী বাঙালির খবর হয়তো রাখেন না। ইতিহাস ও আইন, দু’টিতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের অধ্যাপনা করেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটের সদস্য ছিলেন। বিধায়ক ছিলেন ১৯৬২ থেকে ‘৬৯ পর্যন্ত। রাজ্যে ছিলেন অর্থ ও বিচার— দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী। কেন্দ্রে কংগ্রেসের মন্ত্রী ছিলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসাবে ‘বয়স্ক শিক্ষা’ ও ‘মিড ডে মিল’ তাঁরই ভাবনা। 

গল্প উপন্যাস নাটক লিখেছেন, তাঁর লিখিত ‘জব চার্নকের বিবি’ সিনেমা হয়েছে, ছবিও আঁকতেন। তাঁর ‘বুভূক্ষা’, ‘স্মৃতি অলিন্দে’ এবং দুটি ইংরেজি বই বোদ্ধামহলে সাড়া জাগিয়েছিল। রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন। ভারতের প্রথম ‘বি স্কুল’ আইআইএসডব্লুবিএম-এর সভাপতি, দুই পর্যায়ে প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী সংগঠনের সভাপতি (১৯৮৯-৯০ — ‘৯৩-‘৯৪ এবং ’৯৮-’৯৯), রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনমণ্ডলীর সদস্য ছাড়াও ছিলেন অনেক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতা বা পৃষ্ঠপোষক। ৫ আগস্ট সন্ধে ৬টায় আশুতোষ মেমোরিয়াল ও ক্যালকাটা কালচারাল সেন্টারের আয়োজনে আশুতোষ মেমোরিয়াল প্রেক্ষাগৃহে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন কাশীকান্ত মৈত্র, অশোক গঙ্গোপাধ্যায়, সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করবেন চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *