শোলার সেদিন আর এদিন

2 - মিনিট |

শোলাশিল্পের ব্যবহার সম্পর্কে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কথিত হয় যে, স্বয়ং শিব হিমালয়কন্যা পার্বতীকে বিবাহ করার সময় শ্বেত মুকুট পরার ইচ্ছা পোষণ করেন। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা তখন মুকুট তৈরির উপাদানের কথা ভাবতেই শিবের ইচ্ছায় জলাশয়ে এক ধরণের উদ্ভিদ জন্মে, সেটাই শোলাগাছ

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

‘ গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে ? রাজ্যের বেশিরভাগ লোকশিল্পরেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার মতো বেহাল অবস্থা।শোলাশিল্পের অবস্থাও তার বিকল্প নয়।
এখন প্রশ্ন হল অন্যান্য লোকশিল্পের মতোই হারিয়ে যেতে বসেছে এই শিল্প? পুজোর মুখে কলকাতার একটি অনুষ্ঠান উস্কে দিচ্ছে প্রশ্নটাকে।  শোলার পুতুল, শোলার অলঙ্করণ, প্রতিমার সাজ, এমনকি শোলার পটে প্রতিমা গড়ে পুজোও ছিল বঙ্গসংস্কৃতির অঙ্গ। আজও বাংলার বিভিন্ন জেলায় অন্তত হাজার সাতেক মানুষ শোলাশিল্পে যুক্ত আছেন। ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির কনসুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় ‘বাংলা নাটক ডটকম’ এ বার এই শিল্পের পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগী। শোলা থেকে কত বিচিত্র সৃজন সম্ভব, প্রাথমিক পর্যায়ে সেই ছবি তুলে ধরতে ১৭-১৯ জুলাই আইসিসিআর-এ আয়োজিত হচ্ছে প্রদর্শনী ‘গ্রিন আইভরি’ (১১-৭টা)।


শোলাশিল্পের ব্যবহার সম্পর্কে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কথিত হয় যে, স্বয়ং শিব হিমালয়কন্যা পার্বতীকে বিবাহ করার সময় শ্বেত মুকুট পরার ইচ্ছা পোষণ করেন। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা তখন মুকুট তৈরির উপাদানের কথা ভাবতেই শিবের ইচ্ছায় জলাশয়ে এক ধরণের উদ্ভিদ জন্মে, সেটাই শোলাগাছ। কিন্তু বিশ্বকর্মা শুধুমাত্র পাথর বা কাঠের মতো শক্ত দ্রব্যে কাজ করতে পারদর্শী, শোলার মতো নরম দ্রব্যে নয়। তখন শিবের ইচ্ছায় জলাশয়ে এক সুকুমার যুবকের আবির্ভাব ঘটে, যাকে আখ্যাত করা হয় মালাকার নামে। এখন যারা শোলাশিল্পের সঙ্গে জড়িত তারা মালাকার নামেই পরিচিত এবং হিন্দু সমাজভুক্ত। মালাকাররা বংশানুক্রমে শোলা দিয়ে বৈচিত্র্যময় টোপর, দেবদেবীর অলঙ্কার, চালচিত্র, পূজামন্ডপের অঙ্গসজ্জার দ্রব্যাদি, মালা, গহনা, খেলনা ও গৃহসজ্জার নানা দ্রব্য তৈরি করে। সূত্রধর ও কর্মকাররা বিশ্বকর্মার উপাসক হলেও মালাকাররা শিবের উপাসক। এদের ধারণা শিবের ইচ্ছায় তাদের আবির্ভাব ঘটেছে, তাই শিবই তাদের উপাস্য দেবতা।
শোলাশিল্প  বাংলার অন্যতম লোকজ শিল্প। শোলা বা শোলা জাতীয় উদ্ভিদ থেকে এগুলি তৈরি হয়। শোলাগাছ জলাশয়ে বিশেষত ধানক্ষেতে জন্মে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশে শোলাগাছের গুরুত্ব অনেক। শোলা একটি কান্ডসর্বস্ব গাছ। কান্ডের বাইরের আবরণটা মেটে রঙের, কিন্তু ভেতরটা সাদা। শোলাগাছ সাধারণত ৫-৬ ফুট লম্বা হয় এবং কান্ডের ব্যাস হয় দুই থেকে তিন ইঞ্চি। বাংলাদেশে দুই প্রকার শোলা জন্মে: কাঠ শোলা ও ভাট শোলা। কাঠশোলা অপেক্ষাকৃত শক্ত, কিন্তু ভাটশোলা হালকা ও নরম।যাই হোক, কলকাতার অনুষ্ঠানে থাকছে কর্মশালা, কথা বলা যাবে জনা ত্রিশ শোলাশিল্পীর সঙ্গেও। শেষ দিন, মানে আগামীকাল বিকেল ৩টেয় আছে আলোচনা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *