অবৈধ অস্ত্র সমর্পণ করুন, বন্দুকের সংস্কৃতি শান্তির পথে বাধা: মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী

2 - মিনিট |

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং বন্দুকের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে মণিপুরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন। তাই হিংসার পথ ছেড়ে অস্ত্র সমর্পণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ইম্ফল:মণিপুরে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে অবৈধ অস্ত্র সমর্পণের আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। তাঁর বক্তব্য, সমাজে বন্দুকের সংস্কৃতি বজায় থাকলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা বারবার বাধার মুখে পড়বে।

কাংপোকপি জেলার সাইনাই ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে এই আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) চুক্তির আওতায় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির জন্য নির্ধারিত এই ক্যাম্পটি যৌথ অভিযানের পর নিরাপত্তাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

ইম্ফল পূর্ব জেলার নোংশুমের কাছে তিনজন জ্বালানি কাঠ সংগ্রহকারীর হত্যার ঘটনার পর অভিযান শুরু হয়। এতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ), তার কোবরা ইউনিট, রাজ্য পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরা অংশ নেন।

অভিযানের সময় এসওও-র সদস্য পরিচয় দিয়ে থাকা ১৭ জনকে আটক করা হয় বলে সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে ক্যাম্পে থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫০ জন সশস্ত্র সদস্যের থাকার উপযোগী এই ক্যাম্পটি কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) এবং কুকি লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) জন্য নির্ধারিত ছিল। দুই সংগঠনই এসওও চুক্তির স্বাক্ষরকারী।

পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সিআরপিএফ ও অসম রাইফেলসের আধিকারিকদের কাছ থেকে অভিযান ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। অভিযানে সিআরপিএফের কোবরা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি।

তবে অভিযানের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন খেমচাঁদ। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তাবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা। তল্লাশি ও চিরুনি অভিযানে নিরীহ নাগরিকদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম এসওও-র আওতাধীন নির্ধারিত ক্যাম্প পরিদর্শন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং বন্দুকের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে মণিপুরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন। তাই হিংসার পথ ছেড়ে অস্ত্র সমর্পণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

ক্যাম্প পরিদর্শনের পর এলাকার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গ্রামবাসীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। হিংসা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং সম্প্রদায়গত উত্তেজনার আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদন মণিপুরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *