অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে

2 - মিনিট |

গুয়াহাটি: গুয়াহাটির উলুবাড়ি এলাকার হোটেল বিলাস ইন-এ গুলিচালনায় পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল কামরূপ মহানগর জেলার আদালত। হোটেলের ইজারা ও পরিচালনা নিয়ে বিবাদ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর লাচিত নগরের হোটেলটির পরিচালনা ও বিভিন্ন পরিষেবা নিয়ে […]

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

গুয়াহাটি: গুয়াহাটির উলুবাড়ি এলাকার হোটেল বিলাস ইন-এ গুলিচালনায় পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল কামরূপ মহানগর জেলার আদালত। হোটেলের ইজারা ও পরিচালনা নিয়ে বিবাদ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর লাচিত নগরের হোটেলটির পরিচালনা ও বিভিন্ন পরিষেবা নিয়ে বিরোধ মেটাতে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সেই বৈঠক চলাকালীন বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরই ছ’জনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান ঘনকান্ত। ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। ষষ্ঠ ব্যক্তি সত্যেন্দ্র পাঠক গুরুতর আহত অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় অভিযুক্তকে মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। এরপর তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হোটেলের ইজারা নিয়ে বিবাদ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটির মালিকপক্ষের সঙ্গে ঘনকান্তের বিরোধের সূত্রপাত ইজারা ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হোটেলটির মালিকদের সঙ্গে পাঁচ বছরের ইজারা চুক্তি করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সি ঘনকান্ত। মাসিক ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল প্রায় ১.৮ লক্ষ টাকা।

অভিযোগ, হোটেলটির সংস্কারের পর তার ব্যবহার, পরিচালনা এবং পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সেই বিবাদ মেটানোর উদ্দেশ্যে ২৬ অক্টোবরের বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। বৈঠক চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের অনুমান।

তদন্তে বিশেষ দল, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র

ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা ঘনকান্ত বর্তমানে গুয়াহাটির সাওকুচি এলাকায় থাকতেন। ঘটনার পর তাঁকে বাসিষ্ঠ থানার এলাকার কাছ থেকে আটক করা হয়। গুলিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি পিস্তলও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার অঙ্কুর জৈনের নেতৃত্বে ছ’সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে খালি কার্তুজের খোল এবং .৩২ ক্যালিবারের জীবন্ত কার্তুজ-সহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

বৈঠকে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে বিবাদ চরমে পৌঁছল এবং গুলিচালনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *