‘রাজনৈতিক ও জনতার প্রতিরোধ জিতবেই’, ইন্ডিয়া জোট ও নাগরিক সমাজের বৈঠকের পর বার্তা রাহুলের

2 - মিনিট |

‘ভোট চুরি’র অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী মোদি, অমিত শাহ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা; সুপ্রিম কোর্টের উপর আস্থা প্রকাশ লোকসভার বিরোধী দলনেতার

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি:‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ চলবে, জনতার প্রতিরোধও চলবে এবং শেষ পর্যন্ত জয় হবে মানুষেরই।’ মঙ্গলবার ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সঙ্গে নাগরিক সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর এই বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ‘ভোট চুরি’ এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, গণতন্ত্র ও সংবিধানকে দুর্বল করার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের জবাবদিহি করতেই হবে।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সুনেহরি বাগ রোডে নিজের বাসভবনে বিরোধী জোটের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাহুল। চা-চক্রের এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠান ভূমিকা নিক বা না নিক, বিরোধীদের আন্দোলন থামবে না। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও জনতার প্রতিরোধ জয়ী হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাহুল বলেন, “যা-ই ঘটুক না কেন, কোনও প্রতিষ্ঠান ভূমিকা পালন করুক বা না করুক, রাজনৈতিক প্রতিরোধ চলবে, মানুষের প্রতিরোধ চলবে এবং শেষ পর্যন্ত তা জয়ী হবে।” ‘ভোট চুরি’র জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই অনিয়মের ‘প্রধান কারিগর’ এবং অমিত শাহ তার ‘বাস্তবায়নকারী’।

বিরোধী দলনেতা বিচারব্যবস্থার উপরও আস্থা প্রকাশ করেন। সুপ্রিম কোর্ট, ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি বিরোধীদের ‘অগাধ শ্রদ্ধা’ রয়েছে বলে জানান তিনি। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের উত্থাপিত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে বিচারব্যবস্থা যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাহুল।

সোমবার বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর)-এর নামে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দিকে প্রতিবাদ মিছিল করেছিল বিরোধী জোট। সেই কর্মসূচির পরেই মঙ্গলবারের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ফলে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীন যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

সোমবারের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল বলেন, ওই কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান ছিল না, বরং তা দেশের মানুষের উদ্বেগের প্রতিফলন। তাঁর কথায়, “সোমবারের প্রতিবাদে আমরা যা দেখেছি, তা এখানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান নয়, বরং ভারতের মানুষের অভিব্যক্তি।”

বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং কে সি বেণুগোপাল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ছিলেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক, আনন্দ ভদৌরিয়া ও মহিবুল্লাহ নদভি, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই নেতা ডি রাজা ও পি সন্তোষ কুমার, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

নাগরিক সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এআইএসএ-র নেত্রী নেহা বোরা এবং সিপিআই (এমএল)-এর নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য-সহ অন্যরা।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন বলে জানান রাহুল। তাঁদের কর্মসূচিকে পৃথক পৃথক রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখার প্রবণতাও খারিজ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই লড়াই কোনও একটি দলের নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষার বৃহত্তর উদ্যোগ।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই রাহুলের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার উপর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *