২৪ অক্টোবর শ্রীভূমির হিন্দুস্তান ক্লাব আয়োজিত দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে বিহু দলটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে অসমিয়া গান বাজানো নিয়ে একদল ব্যক্তি আপত্তি জানালে বচসা শুরু হয়। পরে তা হামলার রূপ নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শ্রীভূমি:দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে বিহু পরিবেশন করতে গিয়ে একটি সাংস্কৃতিক দলের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে অসমের শ্রীভূমি জেলায়। ঘটনার নিন্দা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেছেন, অসমের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও পুলিশপ্রধানকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর শ্রীভূমির হিন্দুস্তান ক্লাব আয়োজিত দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে বিহু দলটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে অসমিয়া গান বাজানো নিয়ে একদল ব্যক্তি আপত্তি জানালে বচসা শুরু হয়। পরে তা হামলার রূপ নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
২৫ অক্টোবর সামাজিক মাধ্যমে সোনোয়াল বলেন, বিহু বৃহত্তর অসমিয়া সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখে। শিল্পীদের ওপর হামলা এবং অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি বিদ্বেষ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও ঘটনাটিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিহু অসমের পরিচয় ও গর্বের প্রতীক। রাজ্যের সংস্কৃতিকে অপমান করার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরাক উপত্যকায় অসমিয়া গান পরিবেশন নিয়ে অভিযুক্তদের আপত্তি থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ। হামলায় দলের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া বিহুর বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর এবং কয়েকটি যন্ত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এক তরুণ শিল্পীর সোনার হার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেফতার এবং আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশপ্রধানকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনও গ্রেফতার বা পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বরাক উপত্যকার নিজস্ব ভাষিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের পাশাপাশি অসমের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরে বিহুর গুরুত্বও এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।


