নাগাল্যান্ডে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১.৫৭ লক্ষ, নাম তোলার ফের সুযোগ দিল নির্বাচন কমিশন

2 - মিনিট |

অনুপস্থিত, অন্যত্র চলে যাওয়া, মৃত ও একাধিকবার নাম নথিভুক্তির তালিকায় থাকা ভোটারদের জন্য নতুন করে গণনার নির্দেশ; বুথভিত্তিক বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে প্রকাশ্যে ও অনলাইনে

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ডিমাপুর:নাগাল্যান্ডে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৭৫২ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার আরও একটি সুযোগ দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আওতায় এই ভোটারদের নতুন করে গণনার ফর্ম জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে রাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় নাগাল্যান্ডে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লক্ষ ৬ হাজার ৪৫৭। সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে এই সংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২০৮। অর্থাৎ, খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটার।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৪৯ জনকে অনুপস্থিত, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বা অন্যান্য শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। মৃত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ২৮ হাজার ৯৪৪ জন। এছাড়া একই ব্যক্তির একাধিকবার নাম নথিভুক্তির অভিযোগে ৫ হাজার ৫৯টি নাম বাদ পড়েছে।

৬ নভেম্বরের নির্দেশে কমিশন নাগাল্যান্ড-সহ সাতটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে যাঁদের গণনার ফর্ম জমা পড়েনি, সেই অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও একাধিকবার নাম থাকা ভোটারদের নতুন করে ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তবে যাঁরা যোগ্য ভোটার, তাঁদের যেন কোনওভাবেই তালিকার বাইরে থাকতে না হয়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে কমিশন।

এই নতুন সুযোগের কথা সংবাদপত্র, সামাজিক মাধ্যম, সরকারি ওয়েবসাইট এবং জনঘোষণার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি বুথের বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা নতুন করে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নোটিস বোর্ড, পঞ্চায়েত ভবন এবং পুরসভা বা নগর স্থানীয় সংস্থার দফতরে টাঙাতে হবে। বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ-সহ তালিকাগুলি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটেও সহজে পড়া যায় এমন পিডিএফ আকারে প্রকাশ করতে হবে।

যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়ো বা একাধিক নামের প্রবেশ ঠেকাতেও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্দেশগুলি কতটা কার্যকর করা হচ্ছে, সে বিষয়ে রাজ্যগুলিকে পদক্ষেপের রিপোর্টও জমা দিতে হবে।

নাগাল্যান্ডের মধ্যেই যাঁরা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ফর্ম ৮ জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন। তবে নতুন ঠিকানা ও বিধানসভা কেন্দ্রের উল্লেখ-সহ গণনার ফর্ম এবং বসবাসের বৈধ প্রমাণ জমা দিতে হবে। চাইলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) কাছেও আবেদন জানানো যাবে।

গণনার সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এখন নজর, নতুন নির্দেশের পর কতজন বাদ পড়া ভোটার ফের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *