বরাক উপত্যকায় হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের দাবিতে আইনজীবীদের সঙ্গে আন্দোলনে শামিল পড়ুয়া ও বিভিন্ন সংগঠন, দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর:পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু বরাক উপত্যকায় গৌহাটি হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চ স্থাপনের দাবি আজও পূরণ হয়নি। দীর্ঘ ৫৪ বছরের সেই দাবিকে ফের সামনে এনে শনিবার শিলচরের রাজপথে বিক্ষোভে শামিল হলেন আইনজীবী, পড়ুয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আন্দোলনকারীরা এদিন অসমের রাজ্যপালের উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে শিলচরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
১৯৭২ সাল থেকে বরাক উপত্যকায় হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন এই অঞ্চলের আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার আবেদন, স্মারকলিপি ও আন্দোলন হলেও এখনও পর্যন্ত বিষয়টির কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। আইনজীবীদের বক্তব্য, শিলচরে হাইকোর্টের বেঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হলে বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথ অনেক সহজ হবে।
সম্প্রতি শিলচর জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে এই দাবিকে নতুন করে সামনে আনেন। এরপর ধীরে ধীরে আন্দোলন আইনজীবীদের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে। পড়ুয়া, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই দাবির সমর্থনে এগিয়ে আসেন।
শনিবার শিলচরে স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির সামনে জমায়েত হন আন্দোলনকারীরা। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বরাক উপত্যকায় হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং দীর্ঘদিনের এই সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।
পরে সেখান থেকে মিছিল করে কাছাড়ের জেলাশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছন তাঁরা। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্যপালের উদ্দেশে স্মারকলিপি পাঠানো হয়। শিলচরে গৌহাটি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে দ্রুত উদ্যোগী হওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।
আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে যখন হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে, তখন বরাক উপত্যকাকে কেন এখনও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে? তাঁদের বক্তব্য, কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দির বহু বিচারপ্রার্থীকে হাইকোর্টের মামলার শুনানির জন্য গুয়াহাটিতে যেতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচের বোঝাও বহন করতে হয় তাঁদের।
বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল বিচারপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব ও ব্যয় বিচার পাওয়ার পথে অতিরিক্ত বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। শিলচরে হাইকোর্টের বেঞ্চ চালু হলে শুধু সময় ও অর্থের সাশ্রয়ই হবে না, বরং বরাক উপত্যকার মানুষের কাছে উচ্চ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াও আরও সহজলভ্য হবে।
শনিবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এই দাবি নতুন করে আঞ্চলিক গুরুত্ব পেয়েছে। এবার শুধু আশ্বাস নয়, বরং হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ চান আন্দোলনকারীরা।


