স্বীকৃতি কার্ডের নথিগত জটিলতা দূর করে যোগ্য সাংবাদিকদের সরকারি স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ মন্ত্রীর
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর: কাছাড় জেলার সাংবাদিকদের স্বীকৃতি কার্ড সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হলেন অসমের মন্ত্রী কৌশিক রায়। নথিপত্রের অসম্পূর্ণতা বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কোনও যোগ্য সাংবাদিক যাতে সরকারি স্বীকৃতি, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার কাছাড়ের জেলাশাসকের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার তরফে জেলার তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের স্বীকৃত সাংবাদিকদের দীপাবলির উপহার বিতরণ করা হয়। মোট ৯০ জন সাংবাদিকের জন্য উপহার হিসেবে একটি করে ইন্ডাকশন কুকটপ বরাদ্দ করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্যোগ নতুন নয়। গত বছর সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন উপহার দেওয়া হয়েছিল। এ বছরও দীপাবলি ও কালীপুজো উপলক্ষে সাংবাদিকদের কথা স্মরণ করে উপহার পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই উদ্যোগের জন্য সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তবে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের স্বীকৃতি কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কাছাড়ের বেশ কয়েকজন যোগ্য সাংবাদিক, এমনকী প্রবীণ সাংবাদিকরাও ডিডিআইপিআর/ডিআইপিআরের স্বীকৃতি কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় সমস্যায় পড়ছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র অসম্পূর্ণ থাকা কিংবা সরকারি তালিকায় নাম না থাকার কারণে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান ও ভিআইপি কর্মসূচিতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না। একই কারণে স্বীকৃত সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত সরকারি সহায়তা থেকেও কেউ কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে বরাক উপত্যকা জোনের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছাড় জেলার সাংবাদিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন কৌশিক রায়। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃতি কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের আবেদন ও যোগ্যতা যাচাই করে তালিকা প্রস্তুত করার কথা বলেন তিনি। যাচাই করা তালিকাটি জেলাশাসকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে, যাতে বিষয়টি ডিআইপিআরের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের একটি হালনাগাদ ও যাচাই করা তালিকা থাকলে সরকারি অনুষ্ঠান, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ এবং ভোট গণনার সময় প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সমন্বয় সহজ হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনও প্রকৃত সাংবাদিক যাতে অযথা বাধার মুখে না পড়েন, সেটাই হওয়া উচিত প্রশাসনের লক্ষ্য।
এর আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাছাড়ের জেলাশাসক রাহুল কুমার গুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমকে অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু ঘটনার খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের সমস্যা ও দাবি প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলিকে আলোচনায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জেলাশাসক বলেন, প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা প্রয়োজন। প্রশাসন যেমন সরকারি পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব পালন করে, তেমনই সংবাদমাধ্যম সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রক্ষা করে। কাছাড়ের সাংবাদিকদের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উপহারের প্রকৃত মূল্য তার আর্থিক পরিমাণে নয়, বরং এর পিছনে থাকা আন্তরিকতায়। অসমকে একটি বৃহৎ পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সেই পরিবারের প্রধান হিসেবে উৎসবের আনন্দ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন। সাংবাদিকদের কথা মনে রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, উপহারের বস্তুগত মূল্যের চেয়ে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্মান ও ভালোবাসাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা সমাজকে সচেতন রাখেন, জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং মানুষকে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে অবহিত করেন। তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া সরকার ও জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিলচর পুরনিগমের মেয়র অমরেন্দ্র পালের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র বিজেন্দ্র প্রসাদ সিং এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক জাগৃতি কালওয়ার।
সহকারী কমিশনার জাগৃতি কালওয়ার জানান, মোট ৯০ জন সাংবাদিককে উপহার দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বরাক উপত্যকা জোনের ডিডিআইপিআরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাজ্জাদুল হক চৌধুরী উপহার বিতরণ করেন।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিলচর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক শঙ্কর দে স্বীকৃতি কার্ডের সমস্যা তুলে ধরার জন্য মন্ত্রী কৌশিক রায়কে ধন্যবাদ জানান। ডিআইপিআরের কাছে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা যোগ্য আবেদনগুলির দ্রুত যাচাই ও স্বীকৃতি কার্ড প্রদানের দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, স্বীকৃতি কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা দূর হলে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংবাদপত্র, সংবাদমাধ্যম ও বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বরাক উপত্যকা জোনের আঞ্চলিক তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


