জাতীয় স্বার্থে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে কংগ্রেসের পাশে জমিয়ত

2 - মিনিট |

বদরুদ্দিন আজমলের ‘কুরুচিকর’ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : মাওলানা আনফর আলিকে নিয়ে অপপ্রচার সংগঠনের গরিমাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা : জেলা জমিয়ত । হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘বিদ্বেষমূলক’ রাজনীতি রুখতে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান । মদনি পরিবারের ঐতিহ্য ও জমিয়তের ইতিহাসকে খাটো করার অধিকার কারো নেই : মাওলানা মাহমুদুল হাসান ।

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এআইইউডিএফ (AIUDF) সুপ্রিমো বদরুদ্দিন আজমলের সরাসরি বিরোধিতা করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনের অসম রাজ্য সভাপতি মাওলানা মুস্তাক আহমদ আনফর আলি সম্পর্কে আজমলের সাম্প্রতিক ‘কুরুচিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জমিয়তের অন্দরমহল।

বৃহস্পতিবার শিলচরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তের কাছাড় জেলা কমিটি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানায়। একইসঙ্গে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখতে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের হাত শক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনের জেলা নেতৃত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়ত কর্মকর্তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ একটি বিশ্ববন্দিত ও ঐতিহ্যবাহী সর্বভারতীয় সংগঠন। স্বাধীনতা সংগ্রামে এই সংগঠনের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমন একটি সংগঠনের রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করে সংগঠনের গরিমাকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রধানকে লক্ষ্য করে ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়।

সংগঠনের রাজ্য সহ-সভাপতি তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, “দেশ থেকে ব্রিটিশ বিতাড়নে জমিয়তের যে ত্যাগ, তা ইতিহাসস্বীকৃত। বর্তমানে এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বনন্দিত ব্যক্তিত্ব হজরত মাওলানা সঈদ আরশাদ মদনি, যিনি ‘আমিরুল হিন্দ’ হিসেবে পরিচিত। তিনি কেবল জমিয়তের শীর্ষ নেতাই নন, সৌদি আরবের মদিনার বিশেষ হাদিস পরিষদের নির্বাহী সদস্য এবং দেওবন্দের দারুল উলুমের প্রধান।

” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সভাপতির নির্দেশেই মাওলানা বদরুদ্দিন আজমলকে সরিয়ে মাওলানা মুস্তাক আহমদ আনফর আলিকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সফলভাবে তিনটি কার্যকাল শেষ করেছেন। এমন একজন ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আজমলের আক্রমণ প্রকারান্তরে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শের ওপর আঘাত।

মাওলানা মাহমুদুল হাসান আক্ষেপ করে বলেন, ইসলাম ধর্মে একে অপরের প্রতি কুরুচিকর মন্তব্য করার কোনো স্থান নেই। বিশেষ করে যখন উভয় পক্ষই ইসলামি চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত, তখন এই ধরনের আচরণ ‘কৌমের’ জন্য অশনিসংকেত। তিনি স্পষ্ট জানান, হোজাই জেলার বিন্নাকান্দি আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাওলানা আনফর আলিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন আজমল, যা সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী।

এদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম বড়লস্কর জানান, জমিয়ত উলামা মূলত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও দেশের প্রয়োজনে সঠিক দিশা দেখানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বিশেষ জাতি ও ধর্মগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও অসাংবিধানিক মন্তব্য করে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করছে।

এই বিভেদের রাজনীতি রুখতে হলে কংগ্রেসের বিকল্প নেই। মাওলানা আরশাদ মদনি নিজেও সবসময় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করে এসেছেন। সেই ধারবাহিকতা বজায় রেখে অসমে সাম্প্রদায়িক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কংগ্রেসকে সমর্থনের পরামর্শ দেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে আজমলকে কটাক্ষ করে বলা হয়, তিনি যে ‘জমিয়ত’ করেন, তা মূল স্রোতের কোনো অংশ নয়। সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছানোর যে অপচেষ্টা আজমল করছেন, তা রুখতে জমিয়ত এখন থেকেই সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাহফুজ আহমদ লস্কর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজ তৈয়বুর রহমান লস্কর, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলি বড়ভূইয়া, সম্পাদক জাকির হোসেন রাজবড়ভূইয়া, মাওলানা সাহিদ আহমদ লস্কর, মাওলানা আবু আহমদ বড়ভূইয়া, কার্যকরী সদস্য হাফিজ রায়হান উদ্দিন লস্কর, হাফিজ সুলতান আহমদ তালুকদার, মাওলানা সাইদুল ইসলাম হাজারি এবং আইনি সেলের সদস্য জিয়াউল হক লস্কর প্রমুখ।

Know More

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news