প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা খারিজ পর্যটনমন্ত্রী পল লিংডোর, পরিবেশগত উদ্বেগ, স্থানীয় ছাড়পত্র ও জনশুনানি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলং:প্রবল বিরোধিতা ও স্থানীয় বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত শিলং পিক রোপওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনড় মেঘালয় সরকার। প্রকল্পটি বাতিল করা কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী পল লিংডো। পরিবেশগত প্রভাব, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পরামর্শের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
লিংডো বলেন, সরকার শিলং রোপওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিরোধিতার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে এবং মেঘালয় ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের দ্বিতীয় মেয়াদের উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের এক বছরেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, সরকারের বিরোধীরা চাইছেন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত না হোক, যাতে সরকারকে ব্যর্থ বলে তুলে ধরা যায়।
তবে বিরোধিতা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের দাবি খারিজ করে লিংডো বলেন, রোপওয়ে প্রকল্প কোনও সাধারণ পরিকাঠামো নয় যে এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে। তাঁর কথায়, এটি কোনও ‘কাট অ্যান্ড পেস্ট’ করার মতো বিষয় নয়।
পরিবেশগত উদ্বেগ, বিশেষ করে জলাশয়ের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান থেকে শিলং পিকের দূরত্ব ৩.১৫ কিলোমিটারেরও বেশি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলকে রোপওয়ে পরিকাঠামোর কার্যপদ্ধতি বোঝাতে সিকিমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, জনশুনানি এবং পরামর্শ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে লিংডো দাবি করেন, রাইড লাবান দরবার পাইলুন এবং সাতটি দরবারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে সরকার। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্প নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বিতর্ক
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ট্রেড লাইসেন্স এখনও না পাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পর্যটনমন্ত্রী জানান, সংস্থাটি গত মে মাসেই খাসি হিলস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (কেএইচএডিসি) কাছে লাইসেন্সের আবেদন জানিয়েছিল। শীঘ্রই লাইসেন্স পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, বুধবার নির্মাণ সংস্থার কার্যালয়ে লাগানো তালা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য স্থানীয় ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগে গত ২৭ অক্টোবর প্রকল্পের নির্মাণস্থলে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল কেএইচএডিসি। পরে জেলা প্রশাসন সেই তালা ভেঙে দেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও স্বশাসিত জেলা পরিষদের মধ্যে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য
মেঘালয়ের প্রথম যাত্রীবাহী রোপওয়ে প্রকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত শিলং পিক রোপওয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।
২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ভার্চুয়ালি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। পরে ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর শিলং পিকে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা।
প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই রোপওয়ে মদন লাবানকে শিলং পিকের কাছে অবস্থিত শিলং ভিউপয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত করবে। পর্যটকদের যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি যানজট কমানো এবং রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের জন্য নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে ৮০.৮৯ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম-ডিভাইন প্রকল্পের অধীনে ৭০.১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রয়োজনীয় স্থানীয় ছাড়পত্র, পরিবেশের উপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না হওয়ার অভিযোগে প্রকল্পটি ঘিরে বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে। পর্যটনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেও প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন বা কাজ বন্ধ করার পথে হাঁটতে নারাজ রাজ্য সরকার।


