মিজোরামে বাজি-আতশবাজি আইন লঙ্ঘনে সরকারি কর্মীদের ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা

1 - মিনিট |

আইন ভাঙলে ছ’মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে, অনুমতি ছাড়া আতশবাজি ব্যবহার ও মজুত নিষিদ্ধ

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

আইজল: মিজোরামে নতুন আতশবাজি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে সরকারি কর্মীদের সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা ছ’মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। শুক্রবার এই কথা জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. সাপডাঙ্গা।

এদিন আইজল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ‘দ্য মিজোরাম রেগুলেশন অব ফায়ারওয়ার্কস অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর বিভিন্ন বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। গত আগস্টে রাজ্য বিধানসভায় আইনটি পাস হয় এবং পরের মাসে তা সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আতশবাজি ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর ব্যবহার, মজুত এবং বিক্রি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, জেলাশাসকের (ডেপুটি কমিশনার) আগাম অনুমতি ছাড়া আতশবাজি ফাটানো, ব্যবহার কিংবা নিজেদের কাছে রাখা যাবে না। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া আতশবাজি ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করা বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪ অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

সাপডাঙ্গা জানান, আতশবাজি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩ ও ৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে অনুমতি ছাড়া আতশবাজি ব্যবহার বা মজুত করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স ১২ বছরের কম হলে সংশ্লিষ্ট জরিমানার দায়ভার তার বাবা-মা অথবা অভিভাবকের উপর বর্তাবে বলেও জানান তিনি।

সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান আরও কঠোর। আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাঁদের সর্বোচ্চ ছ’মাসের কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে, আইনের ৫ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া আতশবাজি ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করলে বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দু’বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।

নতুন আইনে এই সংক্রান্ত অপরাধগুলিকে আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এ ধরনের অভিযোগে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আগাম অনুমতি ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করতে পারবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ারও সুযোগ থাকবে।

রাজ্য সরকারের এই নতুন আইনের মাধ্যমে মিজোরামে আতশবাজির ব্যবহার, মজুত ও বিক্রির উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান সাপডাঙ্গা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *